জন্মভূমি বাংলাদেশের মাটিতে চিরনিদ্রায় শায়িত হলেন মিজানুর রহমান। বুধবার দুপুরে নিজ জেলা চাঁপাইনবাবগঞ্জের নিমতলা ঈদগাহ মাঠে তার জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। পরে তাকে ফকিরবাড়ি কবরস্থানে দাফন করা হয়।যুক্তরাষ্ট্রে দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহত মিজানের মরদেহ দেশে পৌঁছে মঙ্গলবার সন্ধ্যায়। তার একমাত্র ভগ্নিপতি প্রকৌশলী সোহেল রানা ডন ঢাকা শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মিজানের মরদেহ গ্রহণ করেন। এরপর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় নিজ শহর চাঁপাইনবাবগঞ্জে। একমাত্র ছেলে মিজানের মরদেহ দেখে মূর্ছা যান বাবা সাবেক শিক্ষক আ. রফিক, মা সুলতানা বেগম ও একমাত্র বোন রিচি।চট্টগ্রাম ইন্টারন্যাশনাল ইসলামিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিবিএ পাশ করেন মিজানুর রহমান (৩৩)। সে উচ্চশিক্ষার্থে ২০১৪ সালের ২৯ জুন স্টুডেন্ট ভিসায় স্বপ্নের দেশখ্যাত যুক্তরাষ্ট্র যান। সোনালী স্বপ্ন ছিল তার। দেশে ফিরে বিয়ে করার কথা ছিল মিজানের। বাবা-মাও যেন আশায় দিন গুনছিলেন। কখন তাদের ছেলে ফিরবেন। ফিরলেন ঠিকই তবে লাশ হয়ে।যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যে লস অ্যাঞ্জেলস শহরে পরাশুনার পাশাপাশি কাজ করতেন শেভরন গ্যাস স্টেশনে। স্টেশনে ক্যাশিয়ার পদে কর্মরত ছিলেন মিজান। গত ১৭ জানুয়ারি ভোর সাড়ে ৩টার দিকে লস অ্যাঞ্জেলস সিটির ভারমন্ট অ্যান্ড লসফেলিস সড়কে শেভরন কোম্পানির ওই গ্যাস স্টেশনে দুর্বৃত্তরা ঢুকে কর্মরত মিজানকে লক্ষ্য করে গুলি করে টাকা-পয়সা নিয়ে পালিয়ে যায়।খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার ব্রিগেডের লোকজন আহত মিজানকে নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। প্রায় ১০ দিন পর ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ প্রেরণ করা হয় লস অ্যাঞ্জেলস ইসলামিক সেন্টারে। সেখানে ২৭ জানুয়ারি মাগরিবের নামাজ শেষে মরহুমের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।গত রোববার (২৯ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টায় ক্যাথে-প্যাসেফিক এয়ারলাইনসের একটি বিমানে মিজানের মরদেহ দেশে পাঠানো হয়। মঙ্গলবার (৩১ জানুয়ারি) মরদেহ বাংলাদেশে পৌঁছায়।বিএ