যশোরের বেনাপোল বাজার থেকে বুধবার রাতে ডিবি পুলিশ দুই ব্যবসায়ীকে মাইক্রোবাসে তুলে নেয়ার ২ ঘণ্টার মাথায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বেনাপোল বাজারসহ বেনাপোল-যশোর সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে বেনাপোল বাজার থেকে যশোর ডিবি পুলিশ বাজারের রেল রোডের তামিম ইলেক্ট্রনিক্স এবং এসএম ইলেক্ট্রনিকের সাগর এবং রানা নামে দুজনকে বিনা কারণে একটি মাইক্রোবাসে তুলে নিয়ে যায়। এ ঘটনা বাজারে ছড়িয়ে পড়লে সঙ্গে সঙ্গে বাজার কমিটি ও সাধারণ ব্যবসায়ীরা দোকানপাট বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এ সময় বেনাপোল-যশোর সড়ক অবরোধ করে যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেন ব্যবসায়ীরা।খবর পেয়ে পুলিশের নাভারন সার্কেলের এএসপি মেহেদী ইমরান সিদ্দিকীসহ বেনাপোল পোর্ট থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেন। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আটক দুই ব্যবসায়ীকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে জানতে পেরে ব্যবসায়ীদের জানালে ব্যবসায়ীরা তাদের উপস্থিতি ছাড়া অবরোধ তুলতে রাজি হননি। পরে এএসপির অনুরোধে অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন ব্যবসায়ীরা। এদিকে অবরোধের খবর পেয়ে ডিবি পুলিশ তুলে নেয়া দুই ব্যবসায়ীকে নাভারনের নবীনগর এলাকায় ছেড়ে দেয়া বলে জানান ব্যবসায়ী সাগর ও রানা। তামিম ইলেক্ট্রনিক্সের মালিক সাগর জানান, তিনি বিদেশ থাকেন। বিদেশ থেকে সম্প্রতি বাড়ি এসে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সময় দেন। বৃহস্পতিবার আবার বিদেশ যাওয়ার কথা রয়েছে এবং বুধবার রাত ৯টায় ঢাকা যাওয়ার কথা ছিল তার। বেনাপোল বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ দুদু জানান, সাদা পোশাকে প্রায়ই বেনাপোল থেকে ডিবি পুলিশ পরিচয়ে নিরীহ লোক ধরে নিয়ে মোটা অঙ্কের অর্থের বিনিময় দু-একদিন পর ছেড়ে দেয়া হয়। আমরা এর সুষ্ঠু সমাধান চাই। পুনরায় এ রকম ঘটনা ঘটলে তার দায় দায়িত্ব প্রশাসনকে নিতে হবে।যশোর ডিবির ওসি ইমাউল হকের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বলেন, কে বা কারা ধরে নিয়ে গেছে, আমি বলতে পারবো না। আমার ডিবি পুলিশের কাজের সঙ্গে যুক্ত নয়।বেনাপোল পোর্ট থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শামিম আহমেদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, আন্দোলনকারী ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে অবরোধ তুলে নেয়। রাত ১১টার দিকে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। মো. জামাল হোসেন/এএম/পিআর