বগুড়ায় প্রাইভেট ক্লিনিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানের প্রতিবাদে শহরের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কর্মবিরতি পালন করেছে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।অপরদিকে, ভ্রাম্যমাণ আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক লাঞ্ছিত হওয়াসহ সাংবাদিকদের সম্পর্কে অশালীন মন্তব্যের প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ সাংবাদিকরা শহরে অবরোধসহ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েবুর রহমান আশিককে অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েবুর রহমান আশিকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত শহরের কানছগাড়ি এলাকায় ফাতেমা ক্লিনিকে অভিযান চালায়। ম্যাজিস্ট্রেট তায়েবুর রহমান আশিক অভিযোগ করে বলেন, ওই ক্লিনিকে অনেক ধরনের অনিয়মের প্রমাণ পায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ কারণে ক্লিনিকের মালিক মামুনুর রশিদ বাবু এবং ভুয়া ডাক্তার ফারুক হোসেনকে গ্রেফতার করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এদিকে, এ খবর পেয়ে মামুনুর রশিদের বড় ভাই বগুড়া প্রেসক্লাবের নব-নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক আরিফ রেহমান ঘটনাটি জানতে ক্লিনিকে গেলে ভ্রাম্যামাণ আদালতের বিচারক ডা. তায়েবুর রহমান আশিক তাকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করা হয়। এর প্রতিবাদে দুপুর ১টার দিকে বগুড়ার সাংবাদিকরা শহরের সাতমাথা এলাকায় বিক্ষোভ সমাবেশ করে। বগুড়া সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারন সম্পাদক জে এম রউফ জানান, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েবুর রহমানকে অবিলম্বে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে প্রত্যাহার করা না হলে পরবর্তীতে বৃহত্তর আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। অপরদিকে, ফাতেমা ক্লিনিকে অভিযান কালে ভ্রাম্যমান আদালতের সাথে থাকা পুলিশ ক্লিনিকের কর্মচারীদেরকে মারধর করার প্রতিবাদে শহরের ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর প্রধান গেটে তালা ঝুলিয়ে কর্মবিরতি পালন করে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। বিকেল ৪টার পর কিছু প্রতিষ্ঠানে কাজ হলেও অধিকাংশ ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান ফটকে তালা ঝুলতে দেখা গেছে।এদিকে গ্রেফতার করা ফাতেমা ক্লিনিকের মালিক মামুনুর রশিদ বাবুকে ৩ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে ৬ মাসে জেল এবং ভুয়া এমবিবিএস ডাক্তার ফারুক হোসেনকে দেড় লাখ টাকা জরিমান অনাদায়ে ৩ জেল দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ডা. তায়েবুর রহমান আশিক জানান, ফাতেমা ক্লিনিকে অভিযানকালে সাংবাদিক আরিফ রেহমান ভ্রাম্যামাণ আদালতের কাজে অযোচিত হস্তক্ষেপ করেছেন। অসৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন তিনি। অন্যদিকে সাংবাদিক আরিফ রেহমান জানান, তিনি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গেলে উল্টো সাংবাদিকদের সাথে অশালীন মন্তব্য করে তাকে আটকে রাখা হয়।লিমন বাসার/এএম/জেআইএম