দেশজুড়ে

বরগুনায় বাড়ছে সাইবার অপরাধ

উপকূলীয় জেলা বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার একটি স্টুডিওর মালিক বিপ্লব। দেখতে ভদ্র গোচের হলেও মোটেও ভদ্র নয় সে। তার এ ভদ্র চেহারার আড়ালে রয়েছে নোংরা চরিত্র। স্টুডিওতে ছবি তুলতে আসা স্কুল- কলেজ পড়ুয়া সহজ সরল তরুণীদের প্রেমের প্রস্তাব দেয় বিপ্লব। এরপর স্টুডিওর ভেতরেই গোপন ক্যামেরায় রেকর্ড করে এসব তরুণীদের সঙ্গে কাটানো একান্ত ঘনিষ্ঠ মুহূর্তের ভিডিও।এখানেই শেষ নয়। সেসব ভিডিও দেখিয়ে সে ব্ল্যাকমেইল করতে থাকে সেই সব তরুণীদের। সেসব ভিডিও ইন্টারনেটে ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বিপ্লব ভুক্তভোগী তরুণীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিত টাকা-পয়সা ও স্বর্ণালংকার।গোপন ক্যামেরার ফাঁদে ফেলে নারী নির্যাতনের এসব তথ্য জানাজানি হলে স্থানীয়দের মধ্যে  গুঞ্জন শুরু হয়।এক সময় স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের সহযোগিতায়  বরগুনা জেলা পুলিশের জালে ধরা পড়ে যায় বিপ্লবের এসব কর্মকাণ্ড।জেলা পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বিপ্লবের স্টুডিও থেকে অর্ধশতাধিক নারীর এমন ঘনিষ্ঠ ভিডিওসহ বিপ্লবের একটি কম্পিউটার জব্দ করেছে পুলিশ। পুলিশই বাদী হয়ে মামলা করেছে তার বিরুদ্ধে। মামলার পর থেকে পলাতক রয়েছে বিপ্লব।শুধুমাত্র সচেতনতা ও যুগোপযোগী আইনের অভাবে বরগুনায় দিন দিন বাড়ছে সাইবার অপরাধ। এসব অপরাধের শিকার হয়ে ভাঙছে সংসার। কেউ কেউ বেছে নিচ্ছেন আত্মহত্যার পথও। তাই নারীদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতনতাবৃদ্ধিসহ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনসমূহ যুগোপযোগী করা সম্ভব হলে এ অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব বলে মনে করেন সচেতন মহল।সাইবার অপরাধ নিয়ে কাজ করেন এমন একটি সংগঠনের পরিচালক (যোগাযোগ) ডিউক ইবনে আমীন বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে মফস্বলের নারীরা সব থেকে বেশি পিছিয়ে । অসচেতনতার কারণে তারা প্রতিনিয়ত শিকার হচ্ছেন সাইবার অপরাধের। এসব অপরাধের শিকার হয়ে ভুক্তভোগী নারীদের ভাঙছে সংসার। আত্মহত্যার পথও বেছে নিচ্ছেন কেউ কেউ।তিনি আরও বলেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সম্পর্কে সর্বস্তরের নারীদের সচেতনতা বৃদ্ধি করার জন্য সরকারি ও বেসরকারিভাবে কাজ করা প্রয়োজন।নারীদের কোনো অপরিচিত কক্ষে খোলামেলা না হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খোলামেলা ছবি শেয়ার না করারও পারমর্শ দেন তিনি।এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট হাসান তারিক পলাশ বলেন, সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে দিন দিন পাল্টে যাচ্ছে সাইবার অপরাধের ধরণ। কিন্তু সে তুলনায় আমাদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইন সংশোধন করা হয়নি। এছাড়াও বর্তমানের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি সংক্রান্ত যেসব আইন রয়েছে তাতেও এ সংক্রান্ত অপরাধের সকল বিষয় সুস্পষ্ট নয়। তাই তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনকে যুগপোযোগী করা্ প্রয়োজন।আরএআর/এমএস