পদ একটি। কর্মকর্তা দুইজন। একজন যোগদান করে দায়িত্বভার পাচ্ছেন না। অন্যজন সরকারি নির্দেশ অমান্য করে দায়িত্ব না দিয়ে জোর করে জেঁকে বসেছেন কর্মস্থলে। এ নিয়ে কুড়িগ্রাম জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে বিরাজ করছে হ-য-ব-র-ল অবস্থা। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানাযায়, এনামুল হক ২০১৬ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি জেলা শিক্ষা অফিসার হিসেবে যোগদানের পর থেকে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অসাদচারণের নানা অভিযোগ উঠে। গত ১১ আগস্ট প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে লেখা এক চিঠিতে কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক খান মো. নুরুল আমিন মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করার স্বার্থে এনামুল হকের বদলে একজন দক্ষ ও কর্মঠ কর্মকর্তাকে পদায়নের অনুরোধ করেন। চিঠিতে তিনি অভিযোগ করেন, পরিবারকে পূর্বের কর্মস্থল টাঙ্গাইলে রেখে ওই কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করলেও নিয়মিতভাবে তার দফতরে আসেন না। কারণে-অকারণে জেলার বাইরে অবস্থান করেন। এ কারণে সেবা প্রত্যাশিরা বঞ্চিত হবার পাশাপাশি কর্মস্থলে সার্বক্ষণিক না থাকার কারণে প্রাথমিক শিক্ষার বেহাল দশা দেখা দিয়েছে। তিনি চিঠিতে ওই কর্মকর্তা ভদ্রতা ও শিষ্টাচার বহির্ভূত এবং অফিসার সুলভ নয় বলে জানান। পত্রের বিষয়টি মহাপরিচালকের দফতরের পরিচালক (প্রশাসন) গত ৩০ আগস্ট মন্ত্রণালয়ের সচিবকে অবহিত করেন আরেকটি পত্রের মাধ্যমে। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একজন উপ-সচিব বিষয়টি তদন্ত করেন। এর পাশাপাশি এনামুল হকের সঙ্গে একজন শিক্ষিকার সঙ্গে রোমান্টিক কথোপকথন ও অনৈতিক প্রস্তাবের অডিও শিক্ষক মহলে ছড়িয়ে পড়লে তুলকালাম সৃষ্টি হয়। এরই প্রেক্ষিতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আমিনুল ইসলাম এবং সাধারণ সম্পাদক জাফর আলী মন্ত্রীর কাছে অভিযোগ করেন। এর চার দিনের মাথায় বদলী করা হয় তাকে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে আরো জানা গেছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. এনামুল হককে গত ২২ জানুয়ারি প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে বদলী করে বরিশাল বিভাগীয় উপ-পরিচালকের কার্যালয়ে সংযুক্ত করেন। তার স্থলাভিষিক্ত করা হয় নীলফামারীর সহকারী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরীকে। ওই দিন এনামুল হকসহ আরো ১১ কর্মকর্তাকে বদলী করা হয়। বদলীর আদেশে বলা হয় ২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে বদলীকৃত কর্মকর্তারা পদায়ন বা বদলীকৃত কর্মস্থলে যোগদান না করলে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়েছেন বলে গণ্য হবেন। গত ২৫ জানুয়ারি স্বপন কুমার রায় চৌধুরী যোগদান করলেও তাকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দায়িত্বভার বুঝে না দিয়ে এনামুল হক সরকারি গাড়ি ব্যবহার ও সরকারি অনুষ্ঠানে যোগদান অব্যাহত রাখেন। শনিবার সদর উপজেলা হলরুমে ঝড়ে পড়ারোধ ও শতভাগ ভর্তি নিশ্চিত করার লক্ষে মতবিনিময় সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে যোগদেন। এছাড়া রোববার পরীক্ষণ বিদ্যালয় মাঠে জেলা পর্যায়ের আন্তঃস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতার সভাপতি হিসেবে যোগ দেয়ার কথা থাকলেও ভোরে তিনি ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তার পরিবর্তে নবাগত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী যোগ দেন অনুষ্ঠানে। উলিপুর বকশীগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আমিনুল ইসলাম অভিযোগ করেন, মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে এনামুল হক বদলী বাতিলের জন্য ঢাকায় দফায় দফায় তদবির করছেন। এমনকি শিক্ষকদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টি করে অনুগত শিক্ষকদের দিয়ে নানান ধরণের তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। ফলে শিক্ষকদের মধ্যে গ্রুপিং-দ্বন্দ্ব প্রকট হয়ে উঠছে। ভেঙে পড়ছে শিক্ষা প্রশাসন। দায়িত্ব না দেয়ার ব্যাপারে এনামুল হক বলেন, নিয়ম বহির্ভূতভাবে আমার পদশূন্য না করেই স্বপন কুমার রায় চৌধুরীকে কুড়িগ্রামে সংযুক্ত করে শিক্ষা বিভাগ থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। তবে নবাগত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা স্বপন কুমার রায় চৌধুরী দায়িত্ব বুঝে না পাওয়ার প্রসঙ্গে বলেন, তিনি কেন দায়িত্ব দেননি তিনিই জানেন। তবে আমি যোগদানের পর আজ প্রথম কার্য দিবসে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী কাজ করছি। নাজমুল হোসেন/এআরএ/জেআইএম