পোড়াদহ মেলা উদযাপনের রেশ কাটতে না কাটতেই বগুড়ার গাবতলীতে বসছে ‘বউ মেলা’। শুধু নারীদের কেনাকাটার জন্য বৃহস্পতিবার সকালে এ মেলা বসে। এই মেলা থেকে নারীরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনাকাটা করতে পারেন।আগের দিন অনুষ্ঠিত পোড়াদহ মেলা ও আজকের বউ মেলাকে ঘিরে গোটা এলাকায় এখনও চলছে উৎসবের আমেজ। আজকের মেলার প্রধান আকর্ষন হলো ক্রেতা বিক্রেতা উভয়েই নারী। পুরুষ কোনো দর্শনার্থী মেলায় প্রবেশ করতে পারবে না।নারীদের কেনাকাটার জন্য বউ মেলায় আশেপাশের ২০ গ্রামের বিভিন্ন বয়সের নারীরা ছাড়া জেলার অতিথিরা মেলা প্রাঙ্গণে কেনাকাটা করেন। মেলার প্রধান আয়োজক এনামুল হক ও মহিষাবান ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে পোড়াদহ মেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বউ মেলাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার সম্ভাবনা নেই। আমরা আশা করছি, ভালোভাবেই এই আয়োজন সমাপ্ত করতে পারবো।মেলায় ৪২ বছর বয়সী নারী হামিদা বেগম এসেছেন তার মেয়ে শাবনুর ও নাতনি ইশাকে নিয়ে। এই তিন প্রজন্মের আগমন ঘটছে বিগত দুই বছর ধরে। হামিদা জানালেন, তার বিয়ে হয়েছে ১৪ বছর বয়সে। তখন থেকেই তিন দেখছেন এই মেলা। উৎসব আমেজের কোনো কমতি থাকে না এই মেলাতে।মেলা প্রাঙ্গণে ছিল কুল (বরই) কাঠের ফার্নিচার, তৈজসপত্র, বিভিন্ন ধরনের আসবাবপত্র, কৃষি সামগ্রী ও খাদ্যদ্রব্য। মেলায় শিশুদের জন্য ছিল নগরদোলা। কাঠ-বাঁশ ও মাটির তৈরি খেলনা পুতুল এবং বেলুনসহ বৈচিত্র্যময় পণ্যের সম্ভার। তবে এবার টোল বেশি হওয়ায় সব জিনিসের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল বলে অনেকে নারী ক্রেতাই অভিযোগ করেছেন।বগুড়ার গাবতলীতে প্রায় দেড়শ বছর ধরে উদযাপিত হয়ে আসছে এই পেড়াদহ মেলা। স্থানীয় প্রবীণরা জানান, সন্ন্যাসী পূজা উপলক্ষে মাঘ মাসের শেষ বা ফাগুনের প্রথম বুধবার গাবতলী উপজেলার মহিষাবান ইউনিয়নে ইছামতি নদীর তিরে একদিনের এই মেলা আয়োজন করা হয়ে থাকে।ঈদ বা অন্য কোনো উৎসবে মেয়ে-জামাই, নাতি-নাতনিদের নিমন্ত্রণ করা না হলেও পোড়াদহ মেলা উপলক্ষে তাদের বিশেষ নিমন্ত্রণ করার রীতি পালন চলছে বহু বছর ধরে। এলাকার প্রতিটি বাড়িই তাই এখন মেহমানে ভরা। পোড়াদহ মেলা একদিনের আয়োজন হলেও সব মিলিয়ে উৎসবের রেশ চলে সপ্তাহ ধরে।গাবতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ ন ম আব্দুল্লাহ আল হাসান বলেন, সুষ্ঠুভাবে মেলা সম্পন্ন করতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে সব ধরনের সহযোগিতা দেয়া হয়েছে। লিমন বাসার/এএম/জেআইএম