অবশেষে নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রাণের দাবি স্বপ্নের শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণকাজ মার্চ মাস থেকে শুরু হতে যাচ্ছে।নারায়ণগঞ্জের সৈয়দপুর ও বন্দরের মদনগঞ্জ দিয়ে শুরু হতে যাওয়া এ সেতুর নির্মাণকাজ আগামী তিন বছরের মধ্যে অর্থাৎ ২০২০ সালের মার্চ মাসের মধ্যে সম্পন্ন করা হবে। সেতুটিতে অর্থায়ন করছে সৌদি আরব। শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে নারায়ণগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হবে বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। বুধবার রাজধানীতে সড়ক ও জনপথ অধিদফতরের সঙ্গে চীনা কোম্পানি সিনো হাইড্রো কর্পোরেশন লিমিটেডের চুক্তি স্বাক্ষর শেষে তিনি এসব কথা বলেন।নারায়ণগঞ্জে গত তিন দশক ধরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের দেয়া ‘মুলো ঝুলানো’ এ পরিস্থিতিরও অবসান হতে যাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জের সাধারণ মানুষ। বুধবার রাজধানীর লা’ মেরিডিয়ান হোটেলে অনুষ্ঠিত সেতু নির্মাণ চুক্তি অনুষ্ঠানে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন, সড়ক ও সেতু মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নাজিম উদ্দিন আহম্মেদ, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ অন্য কর্মকর্তারা।অনুষ্ঠান শেষে সেতুমন্ত্রী বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসীর বহুদিনের স্বপ্ন এই শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণে বহু রাজনৈতিক ওয়াদা অতীতে করা হয়েছিল কিন্তু আমাদের সরকার সেই ওয়াদা পূরণ করছে। এ শীতলক্ষ্যা সেতু নির্মাণে সবচেয়ে বেশি যিনি শ্রম দিয়েছিলেন, সৌদি সরকারের কাছ থেকে ফান্ড আনতে যিনি সহায়ক ছিলেন, তিনি হলেন নারায়ণগঞ্জের প্রয়াত জননেতা ও এমপি নাসিম ওসমান। প্রধানমন্ত্রী নারায়ণগঞ্জবাসীর প্রতি সব সময় সুনজর দিয়েছেন, এ সেতু নির্মাণে তার অবদান সর্বাগ্রে। এরপর যার অবদান তিনি হলেন প্রয়াত নাসিম ওসমান।অনুষ্ঠানে সেতুর প্রকল্প পরিচালক মোহাম্মদ ইকবাল জানান, তৃতীয় শীতলক্ষ্যা সেতুটি হবে ১২৯০ মিটার। যার মধ্যে ৪০০ মিটার হচ্ছে মূল সেতু এবং ৮৯০ মিটার হচ্ছে রাস্তার দু’পাশের ভায়াটেক্ট। সেতুটি হবে চারলেন বিশিষ্ট, সঙ্গে থাকবে জনসাধারণের হাঁটার জন্য ফুটপাত ও রিকশা চলার জন্য পৃথক লেন।শীতলক্ষ্যা সেতুর নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে ৩শ’ ৭৭ কোটি ৬৩ লাখ টাকা। বাংলাদেশ সরকার সৌদি ফান্ড ফর ডেভেলপমেন্টের অর্থায়নে এটি বাস্তবায়ন করবে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর। সেতুর দৈর্ঘ্য হবে ১২৯০ মিটার। সদরের সৈয়দপুরপ্রান্ত থেকে বন্দরের মদনগঞ্জপ্রান্তে এটি শেষ হবে।এফএ/এমএস