ফরিদপুরে বাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে বাসে আগুন লেগে পুড়ে কয়লা হয়ে গেছে ১৩টি মরদেহ। মরদেহ শনাক্ত করতে পারছেন না নিহতের স্বজনরা। প্রিয় মানুষটির মরদেহ খুঁজতে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভিড় করছেন স্বজনরা। মুখমণ্ডলসহ দেহের প্রায় সব অংশ পুড়ে যাওয়ায় মরদেহ চেনা যাচ্ছে না। এ অবস্থায় নিখোঁজ স্বজনদের তালিকা নিচ্ছে পুলিশ।শুক্রবার রাতে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের ফরিদপুরের নগরকান্দার গজারিয়া নামক স্থানে বাস ও কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক আবুল কালাম আজাদ বলেন, মরদেহগুলো তাদের হেফাজতে আছে। পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো ভালোভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেই স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ বিষয়ে পুলিশ প্রশাসনসহ আমরা সবাই কাজ করছি।উল্লেখ্য, নড়াইল থেকে ঢাকাগামী হানিফ পরিবহনের একটি বাস গজারিয়ায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি কাভার্ডভ্যানের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এ সময় বাসটিতে আগুন ধরে যায়। যাত্রীরা কেউ আশপাশের লোকজনের সহায়তায় জানালা দিয়ে বের হয়ে আসতে পারলেও আগুনে পুড়ে মর্মান্তিক মৃত্যু হয় ১৩ জনের। আহতদের পার্শ্ববর্তী গোপালগঞ্জ জেলার মুকসুদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নেয়া হয়। এদের মধ্যে দুজনকে গুরুতর অবস্থায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মমতাজ উদ্দিন বলেন, দুর্ঘটনা এবং বাসে আগুন লাগার ঘটনার কারণ উদঘাটন করতে না পারলেও সংঘর্ষের পর গাড়ির ব্যাটারি বিস্ফোরণ থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। হাইওয়ে পুলিশ, থানা পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা ঘটনাস্থলে এসে উদ্ধার তৎপরতা চালান। রাত সাড়ে ৩টার দিকে উদ্ধার কাজ শেষ হয়। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি রাস্তার ওপর পড়ে থাকায় সড়কের উভয়পাশে যানজটের সৃষ্টি হয়। ভোর রাতে পুড়ে বিধ্বস্ত হওয়া বাসটি পুলিশ রেকার দিয়ে সরিয়ে নিলে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। নগরকান্দা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নাসিম ও হাইওয়ে পুলিশের ওসি হুমায়ুন কবির বলেন, আগুনে পুড়ে যাওয়ায় নিহতদের কাউকেই শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নিহতদের মরদেহ ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে। মরদেহ পুড়ে বিকৃত হওয়ায় তা শনাক্তে ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন হতে পারে।এস এম তরুন/আরএআর/এমএস