দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে কমেছে ধনিয়ার চাষ

শরীয়তপুরে গত বছর ধনিয়া চাষে ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে এর আবাদ হয়েছে। তবে এবার ফলন ভালো হওয়ায় লাভের আশা করছেন চাষিরা। গত বছরও দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং অতিবৃষ্টি সত্ত্বেও ধনিয়ার বাম্পার ফলন হয়েছিল। কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর কৃষকরা ধনিয়া চাষের পরিমাণ কমিয়েছেন।শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্রে জানা যায়, এ বছর ৬ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমি ধনিয়া চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। কিন্তু অর্জিত হয়েছে ৫ হাজার ৬৮০ হেক্টর। ফলে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৮৮০ হেক্টর কম অর্জিত হয়েছে। শরীয়তপুর জেলার ছয়টি উপজেলাতেই কম-বেশি ধনিয়া চাষ হয়। এর মধ্যে এ বছর সদর উপজেলায় ৬৮০ হেক্টর, নড়িয়া উপজেলায় ৬৪০ হেক্টর, জাজিরা উপজেলায় ২ হাজার ৯০ হেক্টর, ভেদরগঞ্জ উপজেলায় ২ হাজার ৭০ হেক্টর, ডামুড্যা উপজেলায় ৭২ হেক্টর এবং গোসাইরহাট উপজেলায় ১২৮ হেক্টর জমিতে ধনিয়া চাষ করা হয়েছে।জাজিরা উপজেলার পাচুখার কান্দি গ্রামের ধনিয়া চাষি মজিদ মিয়া বলেন, এ বছর ধনিয়ার ফলন ভালো হয়েছে। আমাদের উৎপাদিত ধনিয়া বিদেশেও রফতানি হচ্ছে। কিন্তু আমরা প্রকৃত দাম পাচ্ছি না।ঠাকুরকান্দি গ্রামের ধনিয়া চাষি সিরাজুল ইসলাম বলেন, গত বছর ৪০ শতাংশ জমিতে ধনিয়া চাষ করেছি। ভাল ফলনও হয়েছে কিন্তু ভালো দাম না পাওয়ায় লোকসান হয়েছে। লোকসান গুনেও এ বছরও সেই জমিতে আবার ধনিয়ার চাষ করেছি। ধনিয়াও ভালো হয়েছে। তবে এ বছর ভালো দাম না পেলে আর ধনিয়ার চাষ করবো না।  জাজিরা উপজেলার বিলাসপুর এলাকার ধনিয়া চাষি ইদ্রিস মাদবর বলেন, গত বছর এক কানি (১৬০ শতাংশ) জমিতে ধনিয়া চাষ করেছিলাম। ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর অর্ধেক জমিতে ধনিয়া চাষ করেছি। তবে এ বছর ধনিয়ার ফলন ভালো হয়েছে। ভালো দাম পেলে আশা করছি গত বছরের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবো।ভেদরগঞ্জ উপজেলার ডিএম খালি এলাকার ধনিয়া চাষি শামিম সিকদার বলেন, এক একর জমিতে ধনিয়া চাষ করতে ৩০ হাজার টাকার উপরে খরচ হয়ে যায়। অথচ সরকারের কাছ হতে আমরা কোনো সুযোগ সুবিধাই পাই না।শরীয়তপুরের পালং বাজারসহ জেলার খুচরা বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি ধনিয়া ৬২ টাকা দামে বিক্রি হচ্ছে। পালং বাজারের পাইকারি ধনিয়া ব্যবসায়ী তপন বলেন, এ বছর ধনিয়া এখনো কিনিনি। অন্যান্য বছরের তুলনায় এ বছর ধনিয়ার দাম কম। কৃষকদের কাছ থেকে আড়তের মাধ্যমে পাইকাররা ধনিয়া কেনেন। আড়তের খাজনা ও যাতায়াতের ভাড়া দিয়ে কেজিপ্রতি ১৫ থেকে ১৬ টাকা দাম পড়ে যাচ্ছে।এ ব্যাপারে শরীয়তপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. কবির হোসেন বলেন, এ বছর জেলার ৫ হাজার ৬৮০ হেক্টর জমিতে ধনিয়া আবাদ করা হয়েছে। গেল বছর ধনিয়া চাষ করে ভালো দাম না পাওয়ায় এ বছর যে জমি ধনিয়া চাষের জন্য লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তার চেয়ে কম অর্জিত হয়েছে। তবে এ বছরও ধনিয়ার ফলন ভালো হয়েছে।মো. ছগির হোসেন/এফএ/এমএস