ঈশ্বরদী অঞ্চলের মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ও তালিকা নিয়ে আবারও উপজেলাজুড়ে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে দুই পক্ষ তৈরি হয়েছে এবং তারা পাল্টাপাল্টি অবস্থানে আছেন। কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন আমরা কী মুক্তিযোদ্ধা না?এ নিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা মঞ্চের ব্যানারে পৃথক দুটি সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। গত ১৪ই ফেব্রুয়ারি মুক্তিযোদ্ধামঞ্চের উদ্যোগে ও ১৩২ জন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে অভিযোগের প্রতিবাদে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন মঞ্চের আহ্বায়ক আজমল হক বিশ্বাস। এখানে বক্তব্য রাখেন বীর মুক্তিযোদ্ধা কামাল আহমেদ, আতম শহিদুজ্জামান নাসিম, রফিকুল ইসলাম রফিক প্রমুখ। তারা বলেন, কথিত মুক্তিযোদ্ধা জামাল উদ্দিন ১৩২ জন মুক্তিযোদ্ধাকে ভুয়া প্রতিপন্ন করে জেলা প্রশাসক বরাবর যে অভিযোগ করেছেন তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এরা ১১ এপ্রিল পর্যন্ত পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ করে ঈশ্বরদী এলাকা মুক্ত রাখেন। এদিকে, ১৬ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ভারতে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা নামে অপর সংগঠনের উদ্যোগে প্রেসক্লাব মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। লিখিত বক্তব্যে মুক্তিযোদ্ধা আবুল বাসার ও গোলাম মোস্তফা বাচ্চু বলেন, স্বাধীনতার ৪৬ বছর পর মুক্তিযোদ্ধাদের বিতর্কিত করার লক্ষে অমুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাবিরোধীরা মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকায় সুকৌশলে নাম সন্নিবেশিত করে চলেছে। এই পক্ষ ৫০১ জন ভারতে ট্রেনিংপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম দিয়ে একটি রঙিন পোস্টার উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় দেয়ালে দেয়ালে টাঙানো হয়েছে এবং তা সংবাদ সম্মেলনে প্রদর্শন করা হয়। এই সংবাদ সম্মেলন চলাকালীন মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতা গোলাম মোস্তফা চান্না, হাবিবুল ইসলাম হব্বুল, তহুরুল আলম মোল্লা, জাহাঙ্গীর আলম এসে কেন এই সংবাদ সম্মেলন হচ্ছে তা আয়োজকদের কাছে জানতে চান। তারা বলেন, আমরা কী মুক্তিযোদ্ধা না? আমাদেরকে কেন ডাকা হয়নি?। এই নিয়ে পরিবেশ উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। এ সময় সংবাদ সম্মেলন সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। আলাউদ্দিন আহমেদ/এএম/জেআইএম