পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে নির্যাতনের ঘটনার প্রতিবাদে বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের বাইরে দুমকি-বাউফল মহাসড়কে চার ঘণ্টাব্যাপী অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত টানা চার ঘণ্টা এই বিক্ষোভ চলে। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকসহ সব ক’টি গেটে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় ও পুলিশ প্রশাসনের সমন্বয়ে একটি টিম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে আন্দোলনকারীদের থামানোর চেষ্টা চালায়। বিষয়টি সমাধানে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর অধ্যাপক মোহাম্মদ আলীর নেতৃত্বে তার অফিস কক্ষে পুলিশ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী, ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী এবং প্রক্টরিয়াল বডির সঙ্গে আলোচনা হয়। এদিকে সহকারী পুলিশ সুপার (দুমকি-বাউফল সার্কেল) সাইফুল ইসলাম মিলন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী মো. নাঈম হোসেন জানান, সভায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা বিধানে দু’দিনের আল্টিমেটাম দেয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে। দাবি না মানলে অন্যথায় কঠোর আন্দোলন চলবে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে পায়রা নদীর তীরে ঘুরতে যান।এ সময় নলুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের ছেলে আজিমের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দুর্বৃত্তদল তাদের নদীর তীরে আটকে রেখে মারধর করে। দুর্বৃত্তরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে ৭টি মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এরপর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে শিক্ষার্থীদের ছেড়ে দিয়ে তাদের মোবাইল ফোনগুলো নিয়ে পালিয়ে যায় দৃর্বৃত্তরা।ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর মোহাম্মদ আলী বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আমার অফিসে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে। মামলা দায়ের করতে ইতোমধ্যে বাকেরগঞ্জ থানায় জানানো হয়। এ ঘটনায় জরুরি ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আসামিদের নাম পরিচয় যায়নি।মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম