সিলেটের জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে দুর্নীতি বিরোধী অভিযানকালে দুদক দলের ওপর হামলার ঘটনায় এবার সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট (এডিএম) আবু সাফায়াত মোহাম্মদ শাহেদুল ইসলাম ও তার অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের কর্মচারীদের আসামি করে আরেকটি মামলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টায় মহানগরের কোতয়ালি থানায় এ মামলা দায়ের করা করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন দুদক, সিলেটের উপসহকারী পরিচালক শিরিন পারভীন। কোতোয়ালি থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহমদ মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, মামলায় এডিএম, তার অধীনস্থ ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের বাণিজ্য শাখার উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমান এবং জেলা প্রশাসনের কর্মচারীদের আসামি করা হয়েছে। ওসি আরো জানান, গত ৯ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে অভিযানকালে দুদক কর্মকর্তা-কর্মচারীরা হামলার শিকার হন। ওইদিন দুদক, সিলেটের উপসহকারী পরিচালক শিরিন পারভীন থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। পরে ১৪ ফেব্রুয়ারি জেলা প্রশাসনের বাণিজ্য শাখার উচ্চমান সহকারী আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে দুদক আইনে মামলা করেন দুদক, সিলেটের উপসহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ। মামলায় ওই জিডি সংযুক্ত করা হয়। বৃহস্পতিবার সিলেট মুখ্য মহানগর হাকিম সাইফুজ্জামান হিরো সুয়োমুটো শুনানি শেষে ওই জিডিকে নিয়মিত মামলা হিসেবে রেকর্ড করার আদেশ দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে এটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়েছে।এর আগে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি সিলেট জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অফিস সহকারী আজিজুর রহমানকে রাজধানীর একটি হাসপাতাল থেকে গ্রেফতার করে দুদক। অবশ্য তার আগেই তাকে সাময়িক বরখাস্তও করে স্থানীয় প্রশাসন। আটকের পর ১৪ ফেব্রুয়ারি আজিজুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।উল্লেখ্য, গত ৯ ফেব্রুয়ারি বিকেলে অভিযান চালিয়ে জেলা প্রশাসনের ব্যবসা বাণিজ্য শাখার কর্মচারী আজিজুর রহমানকে আটক করেছিল দুদক। সেসময় তার অন্য সহকর্মীরা হামলা চালিয়ে আজিজুর রহমানকে ছিনিয়ে নেন। এতে দুদকের কনস্টেবল মিছবাহ উদ্দিনের মাথা ফেটে যায়। এছাড়া দুদক সিলেট অঞ্চলের উপ সহকারী পরিচালক ওয়াহিদ মঞ্জুর সোহাগ, রণজিৎ কুমার, কনস্ট্রেবল মিসবাহ উদ্দিন, গাড়ি চালক বিপ্লব আহত হন। ওই সময় দুদক কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে রাখে জেলা প্রশাসনের কর্মচারীরা। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। ওইদিন রাতেই দুদক কর্মকর্তা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় জিডি করেন।দুদক সিলেট অফিসের উপপরিচালক ৯ ফেব্রুয়ারি জানিয়েছিলেন, ঘুষ গ্রহণকালে হাতেনাতে আটক করা হয় আজিজুরকে।এ ঘটনায় তদন্তে নামে দুদকের উচ্চ পর্যায়ের তদন্ত টিম। গত ১১ ফেব্রুয়ারি দুপুরে ঘটনা তদন্তে সিলেটে আসেন দুদকের বিশেষ মহাপরিচালক আসাদুজ্জামান। সিলেট এসে তিনি দুদক ও জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং ৯ ফেব্রুয়ারির ঘটনা সম্পর্কে দুই পক্ষের বক্তব্য শোনেন। দুদকের কর্মকর্তাদের উপর হামলার ঘটনা তদন্তে সিলেটের একজন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনারকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। ৯ ফেব্রুয়ারি রাতের এ ঘটনায় সিলেট কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করে দুদক। ছামির মাহমুদ/এফএ/পিআর