জলবায়ুর পরিবর্তনসহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে দিন দিন কমছে কৃষি জমির পরিমাণ। এ অবস্থায় কৃষি জমির ব্যবহার বাড়াতে শস্য বিন্যাস পদ্ধতির প্রতি গুরুত্ব দিচ্ছেন এ খাতের গবেষকরা। তারা বলছেন কিছু নির্দিষ্ট জাতের ফসল চাষ করে বাড়তি ফসল উৎপাদন করা সম্ভব। এতে করে কৃষকের জমির উৎপাদন ক্ষমতা যেমন বাড়বে তেমনি আর্থিকভাবেও লাভবান হবেন কৃষক। জানা গেছে, পটুয়াখালীসহ দক্ষিণ অঞ্চলের কৃষকরা সাধারণত স্থানীয় জাতের আমন ধান আবাদ করে থাকেন। এ ধান উৎপাদনে প্রায় ১৮০ থেকে ২০০ দিন সময় লাগে। এ অঞ্চলে জলাবদ্ধতা ও লবনাক্ত সহিষ্ণু ব্রি ধান ৫২ ও ৪৯ আবাদ করলে ১৪০ থেকে ১৪৫ দিনেই ফসল ঘরে তোলা সম্ভব। আগাম এই ফসলটি ঘরে তুলে কৃষক ওই জমিতেই বারি-১৪ অথবা টরি-৭ জাতের সরিষা আবাদ করতে পারবেন। যার ফসল ৭০ থেকে ৭৫ দিনে ঘরে তোলা সম্ভব হবে। পরবর্তীতে একই জমিতে বারি-৬ জাতের মুগডাল চাষ করবেন কৃষক। কৃষক ছোবাহান মিয়া জানান, আগে আমার জমিটা খালি থাকতো। আমি এই সময়ে মুগ ডাইল চাষ করতাম। ওই খালি জায়গায় আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে বারি-১৪ অথবা টরি-৭ জাতের সরিষা চাষ করছি। আল্লাহ্ দেলে ফলনও ভালো পামু। সরিষা বিক্রি কইরা ভালো টাহা পামু।এসময় ছোবাহান মিয়ার সরিষার ক্ষেত দেখতে আসা কৃষক আছলাম মৃধার সঙ্গে কথা হয়। তিনি জানান, ছোবাহান মিয়া আধুনিক পদ্ধতি অনুসরণ করে খালি জায়গায় সরিষা খ্যাতে ভালো ফলন পাইছে। আমি চিন্তা করছি আগামীতে আমার জমিনে সরিষা চাষ করমু।পটুয়াখালী ব্লুগোল্ড প্রোগ্রামের টিম লিডার গাইজোনস জাগো নিউজকে বলেন, ফসল উৎপাদনের এই চক্রটি অনুসরণ করলে কৃষক তিনটি ফসল যেমন উৎপাদন করে লাভবান হবেন, তেমনি জমির উর্বরতা বাড়বে। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত হুমকি মোকাবেলায়, সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের ব্লুগোল্ড প্রোগ্রামের মাধ্যমে নতুন এসব প্রযুক্তি ও ফসল উৎপাদন প্রক্রিয়াকে কৃষকের মাঝে ছড়িয়ে দিতে কাজ করছে।পটুয়াখালী ব্লুগোল্ড প্রোগ্রামের অ্যাডভাইজার এএসএম শহিদুল হক জাগো নিউজকে বলেন, কৃষি বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী শস্য বিন্যাসের এই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে যেসব কৃষক ইতোমধ্যে চাষাবাদ করছেন, তারা সবাই লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন। অনেকেই সেসব কৃষকের কাছ থেকে পরামর্শ নিয়ে এ ধরনের চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।জলবায়ু পরিবর্তন জনিত কারণে কৃষির উপর যে হুমকি রয়েছে তা মোকাবেলয় কৃষি ক্ষেত্রে আধুনিক সব পদ্ধতি অনুসরণ করে চাষাবাদ করলে কৃষক যেমন লাভবান হবেন তেমনি দেশের অর্থনীতিতে কৃষকরা আরো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে বলে মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এফএ/এমএস