আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক, পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের হাতে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপি আলহাজ ছানোয়ার হোসেন লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে নানা আলোচনা। ক্ষমতাসীন দলের প্রভাবশালী এই নেতার এমন আচরণে হতবাক হয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ। ঘটনাটিকে কেউ কেউ কেবল ‘শাসন’ বলে চালিয়ে দেয়ার চেষ্টা করলেও কারো কারো চোখে ঘটনাটি ন্যক্কারজনক। রোববার সকাল থেকেই ঘটনাটি টাঙ্গাইল শহরের ‘টক অব দ্যা টাউনে’ পরিণত হয়েছে।ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে টাঙ্গাইল জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের বলেন, এটি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা। আর এটি ঘটেছেও আমাদের কিছু ত্রুটির জন্যই। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আমাদের অভিভাবক। তিনি আমাদের ভুল ত্রুটির জন্য শাসন করতেই পারেন। এটি নিয়ে আমাদের দলের মধ্যেও কোনো বিতর্ক নেই। এটিকে লাঞ্ছিত হওয়া মনে করার কারণ বলে ভাবছেন না তিনি।তবে ঘটনাটিকে দুঃখজনক বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। তারা অবশ্য চান না গণমাধ্যমে তাদের নাম প্রকাশিত হোক। টাঙ্গাইল জেলা জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক সম্পাদক ফকির শাহ্ আলম বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও মন্ত্রীর হাতে নির্বাচিত এমপি লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনাটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম ও ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এ ঘটনার পেছনে যে রহস্যই থাকুক না কেন, প্রতিটি দলের নেতাকর্মীর জন্য এটি একটি অশনিসঙ্কেত। এ ঘটনায় শুধু দলের শৃঙ্খলা ভঙ্গের কারণই ঘটেনি, এতে হয়েছে দলের নেতাকর্মী ও নির্বাচিত এলাকাবাসীর অবমূল্যায়ন। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন তিনি।ঘটনার বিষয়ে জানতে টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের এমপি আলহাজ ছানোয়ার হোসেনের বাসভবনে গিয়ে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। এদিকে ঘটনার বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিককে ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘আমি এমপি মো. ছানোয়ার হোসেনকে শাসন করেছি। এটা আমাদের আওয়ামী লীগ পরিবারের বিষয়। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে এটা আমি করতেই পারি।’উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার রাত ৯টায় নাটোর থেকে ওবায়দুল কাদের কালিহাতী উপজেলার যমুনা রিসোর্টে যান। সেখানে তার রাতের খাবারের আয়োজন করেন টাঙ্গাইল-৪ (কালিহাতী) আসনের নবনির্বাচিত এমপি হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী। কিন্তু হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী তাৎক্ষণিক উপস্থিত না থাকায় ওবায়দুল কাদের নেতাকর্মীদের প্রতি ক্ষুব্ধ হয়ে রাতের খাবার না খেয়েই চলে যাওয়ার প্রস্তুতি নেন। এসময় টাঙ্গাইল-৫ সদর আসনের এমপি আলহাজ মো. ছানোয়ার হোসেন মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরকে খাওয়ার জন্য অনুরোধ জানান। ছানোয়ার হোসেন ওবায়দুল কাদেরকে বলেন, হাসান ইমাম খান সোহেল হাজারী রাস্তায় রয়েছেন। কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন তিনি। এ কথা শুনেই ওবায়দুল কাদের রেগে গিয়ে ছানোয়ারকে চর-থাপ্পড় মারেন। রিসোর্ট ত্যাগ করার আগে ছানোয়ার হোসেনের মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে সান্ত্বনাও দেন তিনি।আরিফ উর রহমান টগর/এফএ/এনএফ/জেআইএম