পাঁচ শিক্ষার্থীকে জিম্মি করার ঘটনার কোনো সুরাহা না হওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ফের উত্তাল হয়ে উঠেছে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। রোববার সকাল ১০টায় প্রশাসনিক ভবনের সামনে ঘটনায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে মূল ফটক অবরুদ্ধ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা বিক্ষোভ সমাবেশ অব্যাহত থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গেটসহ সব ক’টি গেট বন্ধ থাকায় ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে এবং বাইরে জনসাধারণ ও যান চলাচলে সমস্যার সৃষ্টি হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. হারুনর রশীদের নেতৃত্বে সমস্যা সমাধানে একাধিক মিটিং চলছে বলেও প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সভার সিদ্ধান্ত জানা যায়নি। কৃষি অনুষদের ছাত্র মো. নাঈম হোসেনের সঞ্চালনায় বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তুহিন রায়হান, রুবেল আহমেদ, নাইমুর লিখন, তুষার কান্তি, সানজিদা রহমান, লিথুন আহমেদ লাবিব প্রমুখ। এ সময় দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ শিক্ষার্থীদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের প্রতি দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের হুশিয়ারি দেন আন্দোলনকারীরা। এদিকে, ছাত্র নির্যাতনের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো মামলা হয়নি। জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো বাদী কিংবা সাক্ষী পাওয়া যাচ্ছে না বলেও একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স শেষ বর্ষের পাঁচ শিক্ষার্থী পার্শ্ববর্তী বাকেরগঞ্জ উপজেলার নলুয়া গ্রামে পায়রা নদীর তীরে ঘুরতে যায়। সেখানে নলুয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হারুন অর রশিদের ছেলে আজিমের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি দুর্বৃত্তদল তাদের জিম্মি করে নির্যাতন করে। সেখানে ৫ ঘণ্টা অবরুদ্ধ থাকার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এর আগে গত বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত একই দাবিতে টানা চার বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। রোববার বিকেলে প্রক্টরসহ বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আশ্বাসে আন্দোলন স্থগিত করে প্রশাসনিক ভবনের সম্মুখ ছেড়ে খেলার মাঠে চলে যায় আন্দোলনকারীরা। মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/আরআইপি