দেশজুড়ে

হাতীবান্ধায় বিপাকে মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধার গোতামারী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আবুল হোসেনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় বিপাকে পড়েছেন। অভিযোগ করা মুক্তিযোদ্ধাকে তার অভিযোগ তুলে নেয়ার জন্য অব্যাহতভাবে হুমকি দেয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার বিকেলে হাতীবান্ধা থানা একটি সাধারণ ডাইরি (জিডি) করেছেন। মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন জাগো নিউজকে জানান, ১৯৮৭ সালে হাতীবান্ধায় মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা ছিল ১৪৯ জন। কিন্তু বর্তমানে উপজেলায় প্রায় ৩২৪ জন মুক্তিযোদ্ধা সরকারের দেয়া সম্মানি ভাতা তুলছে। সম্প্রতি সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা প্রণয়নে যাচাই-বাছাইয়ের ঘোষণা দেন। এতে শতাধিক ভাতা ভুক্ত মুক্তিযোদ্ধার নাম উল্লেখ করে তাদের যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় আনতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেন আবুল হোসেন।আর তাই ওই সব মুক্তিযোদ্ধাদের সোমবার যাচাই-বাছাই কমিটির সামনে উপস্থিত হতে ইতোমধ্যে নোটিশ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এমনটি জেনে সেই সব অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে মুক্তিযোদ্ধার একাংশ বেশ দৌঁড় ঝাপ শুরু করেন। এরই আলোকে গত দুইদিন ধরে অভিযোগকারী মুক্তিযোদ্ধার মুঠোফোনে বিভিন্ন নম্বর থেকে অব্যাহত হুমকি দেয়া হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ‘বিভিন্ন নম্বর থেকে আমাকে বলা হচ্ছে অভিযোগ তুলে নিতে। নইলে আমারও পরিবারের যে কোনো সদস্যের ক্ষতি করা হবে। শুধু তাই নয়, সোমবার মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইকালে আমি উপস্থিত হলে আমার হাত-পা ভেঙে দেয়া হবেও বলেও মুঠোফোনের মাধ্যমে হুমকি দেয়া হচ্ছে।’জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের কমান্ডার ও যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চত করে বলেন, বিষয়টি আমি জেনেছি। ওই মুক্তিযোদ্ধাকে নিয়ে হাতীবান্ধা থানায় জিডি করেছি।হাতীবান্ধা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম বলেন, ‘মুক্তিযোদ্ধকে হুমকি দেয়ার ব্যাপারে একটি অভিযোগ পেয়েছি। কিন্তু সেখানে শুধু কয়েকটি মোবাইল নম্বর লেখা আছে।’হাতীবান্ধা উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ এনামুল কবির বলেন, বিষয়টি নিয়ে মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসেন আমাকে কিছু বলেনি। তবে যেসব মুক্তিযোদ্ধা অন্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন তাদের অবশ্যই যাচাই-বাছাইকালে বিষয়টি প্রমাণের জন্য উপস্থিত থাকতে হবে।এআরএ/আরআইপি