রাতের অন্ধকার ভেদ করে রাস্তার পাশে আবর্জনার স্তুপ থেকে ভেসে আসছিল নবজাতক শিশুর কান্না। আর সেই কান্না শুনে থমকে দাঁড়ান কয়েকজন পথচারি। আশপাশের লোকজন সদ্য ভূমিষ্ট শিশুটিকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যান। এ যাত্রায় প্রাণে বেঁচে যায় শিশুটি। তবে এখনো তার চিকিৎসা চলছে। এমন খবর শুনে রোববার রাতে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলা হাসপাতালে ভিড় করে শত শত মানুষ। তাদের একজন আমির উদ্দিন। পাকুন্দিয়া পৌর এলাকার শ্রীরামদী গ্রামের হাফিজ উদ্দিনের ছেলে আমির উদ্দিন বিয়ে করেছেন ১৬ বছর আগে। কিন্তু তাদের কোনো সন্তান নেই। রাস্তার পাশে আবর্জনায় পড়ে থাকা ফুটফুটে শিশুটিকে পরম মমতায় বুকে টেনে নেন তিনি। রাত সাড়ে ৮টার দিকে পাকুন্দিয়া-হোসেনপুর সড়কের পৌরসভার বাজারের অদূরে রাস্তার পাশে কে বা কারা সদ্য ভূমিষ্ট কন্যা শিশুটিকে ফেলে রাখে। পথচারি ও আশপাশের লোকজন নবজাতকের কান্না শুনে শিশুটিকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। এসময় আমির উদ্দিন শিশুটিকে নিজের কাছে নিয়ে লালল-পালনের ইচ্ছে প্রকাশ করেন। পরে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ওসি মোহাম্মদ সামসুদ্দীন, হাসপাতালের ডা.কামরুল হাসান, পাকুন্দিয়া ডিগ্রি কলেজের সাবেক ভিপি মো.ফরিদ, পৌর কাউন্সিলর মোবারক হোসেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে নিঃসন্তান আমির উদ্দিনের কোলে তুলে দেয়া হয় নবজাতক শিশুটিকে। আর ফুটফুটে শিশুকে পেয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়েন আমির উদ্দিন। রাতেই শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নেয়া হয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে। বর্তমানে ওই হাসপাতালে আমির উদ্দিনের হেফাজতে নবজাতক শিশুর চিকিৎসা চলছে। ডাক্তারদের ধারণা জন্মের দুই থেকে তিনঘণ্টা পর শিশুটিকে ফেলে রাখা হয়। কুড়িয়ে পাওয়া শিশুর দায়িত্ব নেয়া আমির উদ্দিন বলেন, এখন থেকে ওই শিশুর সমস্ত দায়ভার আমার। চিকিৎসা করিয়ে আমি তাকে সুস্থ করে তুলবো। তার সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবো। শিশুটির একটি সুন্দর নাম রাখা হবে বলেও জানান তিনি। এ ব্যাপারে পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ সামসুদ্দীন জানান, উদ্ধার হওয়া নবজাতক শিশুর সবার আগে সুচিকিৎসার প্রয়োজন। নি:সন্তান আমির উদ্দিন শিশুটির চিকিৎসাসহ লালন-পালনের দায়িত্ব নিয়েছেন। নূর মোহাম্মদ/এমএএস/জেআইএম