‘বাবা ভাষার জন্য আন্দোলন করলেন কিন্তু রাষ্ট্রীয়ভাবে বাবাকে ভাষা সৈনিকের কোনো স্বীকৃতি দেয়া হলো না। এদিকে বাবার থেকে কম ভূমিকা রাখা মানুষ ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতি পেয়েছেন। পেয়েছেন ২১শে পদক। আমরা বাবার মরণোত্তর ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতি চাই আমরা’ সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার ঝাপাঘাটা গ্রামের ভাষা সৈনিক শেখ আমানউল্লাহর মেয়ে বাংলাদেশ উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা আঞ্চলিক কেন্দ্রের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আফসানা বাবু জাগো নিউজের কাছে এভাবেই তাদের দাবির কথা জানান। ১৯২৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন শেখ আমানউল্লাহ। একজন ভাষা সৈনিক, মুক্তিযুদ্ধের সফল সংগঠক ও শিক্ষানুরাগী। তারই হাত ধরে প্রতিষ্ঠিত হয় সাতক্ষীরার কলারোয়া সরকারি কলেজ, গার্লস হাইস্কুল, পাবলিক ইনস্টিটিউটসহ উপজেলার আরো ৮-১০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠা করেন শেখ আমানউল্লাহ ডিগ্রি কলেজ।শেখ আমানউল্লাহর বড় ছেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্র বিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক শেখ সাইদুর ইসলাম বাবু জাগো নিউজকে বলেন, বাবা তখন যশোর এমএম কলেজের ছাত্র। সেসময় ১৯৪৮ সালে প্রথম ভাষার প্রশ্নে যশোরে আন্দোলন হয়েছে। সে আন্দোলনে বাবার বলিষ্ঠ ভূমিকা ছিল। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে জাতীয়ভাবে ঢাকা থেকে ভাষা আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়। পরবর্তীতে ভাষা আন্দোলনের বইতে বাবাকে জনৈক আমানউল্লাহ হিসেবে বলা হয়েছে। যশোর-খুলনার ইতিহাস নামের একটি বইতে বাবাকে নিয়ে ২০ পৃষ্ঠা লেখা হয়েছে। অথচ বাবাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি। এসময় বাবার মরণোত্তর ভাষা সৈনিকের স্বীকৃতির জন্য তিনিও দাবি জানান।শেখ আমানউল্লাহর চার ছেলে মেয়ের মধ্যে আফরোজা বানু ঢাকার মালীবাগ শহীদ ফারুক গার্লস স্কুলের সিনিয়র শিক্ষক হিসেবে নিয়োজিত রয়েছেন ও শেখ মঞ্জুরুল ইসলাম রয়েছেন সাতক্ষীরার গ্রামের বাড়িতে। ২০১৩ সালের ৩০ আগস্ট মৃত্যুবরণ করেন গুণী মানুষ শেখ আমানউল্লাহ।আকরামুল ইসলাম/এফএ/পিআর