সাতক্ষীরা এখন ধুলার শহরে পরিণত হয়েছে। জেলা সদরসহ উপজেলাগুলোতেও একই অবস্থা। এতে মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। এছাড়াও ধুলায় নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। জেলা সচেতন নাগরিক কমিটির সদস্য ফাইমুল হক কিসলু জানান, সাতক্ষীরা একটা ধুলার শহরে পরিণত হয়েছে। এতে এলার্জি, শ্বাসকষ্টসহ বিভন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। মানুষের জীবন হুমকির মুখে। এ থেকে পরিত্রাণ পেতে হলে দ্রুত রাস্তাঘাট সংস্কার করা জরুরি। সাতক্ষীরা পৌরসভার মধ্যে কোনো রাস্তা ভালো নেই। রাস্তাঘাটের উন্নয়নে কারো কোনো নজরদারি নেই।সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের হিসাব বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সোহাগ হোসেন বলেন, রাস্তাঘাট যখন সংস্কার করা হয় তখন শুরু হয় অনিয়ম-দুর্নীতি আর অব্যস্থাপনা। ফলে সংস্কার করা রাস্তাগুলো বেশিদিন স্থায়ী হয় না। কয়েকদিন যেতে না যেতেই আবারো রাস্তাগুলো পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। পাটকেলঘাটা বাইগুনি গ্রামের আব্দুল মতিন জানান, সাতক্ষীরা-যশোর-খুলনাসহ সাতক্ষীরার সকল গুরুত্বপূর্ণ সড়কের একই অবস্থা। সরকারি দফতরের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয় না থাকায় রাস্তাঘাটের উন্নয়ন না হওয়ার মূল কারণ। রাস্তাঘাটের উন্নয়ণে সাতক্ষীরার সর্বস্তরের মানুষদের নিয়ে গণআন্দোলন গড়ে তোলা জরুরি।সাতক্ষীরার দেবহাটা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রণজিৎ রায় জাগো নিউজকে জানান, যারা শ্বাসকষ্টজনিত রোগে ভুগছেন ধুলার কারণে তাদের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যাবে। তাছাড়া ধুলার কারণে ফুসফুসের শ্বাসনালীর সমস্যার সৃষ্টি হবে।সাতক্ষীরা সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ মনজুরুল করিম জানান, সাতক্ষীরা জেলায় সড়ক বিভাগের আওতায় ২৭২ কিলোমিটার সড়ক রয়েছে। গত বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও ওভারলোডের কারণে অধিকাংশ রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত। এসব রাস্তা সংস্কার করার জন্য ইতোমধ্যে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, সাতক্ষীরার প্রধান সড়ক সার্কিট হাউজ থেকে বাঁকাল পর্যন্ত রাস্তাটি দ্রুত সংস্কার হওয়ার কথা রয়েছে। যাদের দায়িত্বে কাজটি করার কথা তারা করছেন না। শুধু জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে সকল সমস্যার সমাধান সম্ভব নয় বলেও তিনি মন্তব্য করেন।আকরামুল ইসলাম/আরএআর/আরআইপি