ছোট্ট একটি কুড়েঘর নিয়ে বিরোধ ভাইদের মধ্যে। পাঁচ ভাই একদিকে অন্যদিকে দুই ভাই। বাবার রেখে যাওয়া এ ঘরটি নিয়েই বিরোধ চরমে। এরই মধ্যে সাতক্ষীরার তালার থানা পুলিশের উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোজাফফর হোসেন একটি পক্ষ নিয়ে খেলছেন। মাকে মারপিটের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ উল্টো কাল্পনিক মামলা সাজিয়ে বৃদ্ধা রোকেয়া বেগমের এক ছেলে নাতি ও বউমাকে জেলে পাঠিয়েছেন তিনি। ঘটনাটি সাতক্ষীরার তালা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামের।‘বৃদ্ধ মাকে ঘুম থেকে তুলে বেধড়ক মারধর’ ও ‘মাকে মারধরের ঘটনায় মামলা নেয়নি পুলিশ’ শিরোনামে দুইটি খবর ২১ ও ২৫ ফেব্রুয়ারি জাগো নিউজে পৃথক দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।প্রতিবেদনে বলা হয়, সাতক্ষীরার তালা সদরের মাঝিয়াড়া গ্রামে মৃত. মির্জা দুলাল হকের রেখে যাওয়া ছোট্ট একটি কুড়ে ঘর নিয়ে বিরোধ শুরু ভাইদের মধ্যে। মৃত্যুর আগে ছোট এ ঘরটি ছোট ছেলেকে মৌখিকভাবে দিয়ে গিয়েছিলেন বাবা। বর্তমানে মির্জা কামরুল ও বাবু এ ঘরটি ছোট ভাইকে দিতে চান না। আর সেই ঘর নিয়েই ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে বৃদ্ধ মাকে ঘুম থেকে টেনে তুলে বেদম মারপিট করে হাসপাতালে পাঠায় বৃদ্ধার দুই ছেলে কামরুল ও বাবু। সেই সঙ্গে মির্জা বাবুর দায়ের করা এক কাল্পনিক মামলায় ওই রাতেই বৃদ্ধার ছোট ছেলে জাহিরুল, নাতি স্কুলছাত্র আনারুল ও বউমা ময়না বেগমকে পুলিশ গ্রেফতার করে পরদিন জেল হাজতে পাঠায়।এদিকে, তালা থানায় মির্জা বাবুর দায়ের করা মামলার এজাহারে বলা হয়, ২০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৯টায় ছোট ভাই জাহিরুল এর পরিবার তার পরিবারের ওপর হামলা চালায়। মারপিট করে হাত ভেঙে দেয়া, মারধর, মালামাল লুটসহ কয়েকটি অভিযোগ করা হয়। তার স্ত্রী সখিনাকে তালা হাসপাতালে ভর্তি করে থানায় মামলা করতে বিলম্ব হলো। সেই মামলায় পুলিশ তিনজনকে গ্রেফতার করে।তবে জাগো নিউজের অনুসন্ধানে মিলেছে ভিন্ন তথ্য। তালা হাসপাতালের জরুরি বিভাগে ওই তারিখে সাখিনা নামের কেউ হাসপাতালে ভর্তি হয়নি। ২১ তারিখে সকাল ৮টায় মির্জা জামিরুল ইসলাম বাবুর স্ত্রী সখিনা বেগম ভর্তি হয়েছেন বলে জাগো নিউজকে জানান হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।এসব বিষয় জানার পর মামলার তদন্তকারী উপ-পুলিশ পরিদর্শক মোজাফফর রহমান জাগো নিউজকে জানান, মা ছেলে কেউ ভালো না। মাকে মারপিটের অভিযোগ মিথ্যা। কে কবে হাসপাতালে ভর্তি হলো সেটা আমার দেখার বিষয় না।অনদিকে, বৃদ্ধা মা রাবেয়া বেগম শনিবার তাকে মারধরের ঘটনায় থানায় মামলা দিতে গেলে নেয়নি পুলিশ। বরং তালা থানার এএসআই মোজাফফর হোসেন তাকে খারাপ বলে সম্বোধন করেন। এসব কথা জাগো নিউজকে জানান বৃদ্ধা রাবেয়া বেগম। তিনি বলেন, দারোগা মোজাফফর বলে আমি খারাপ, মা খারাপ। টাকা নিয়ে এমন করছে এই দারোগা।এ বিষয়ে তালা থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাসান হাফিজুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, যদি এমন হয়ে থাকে তবে সে অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে। অন্যদিকে, বৃদ্ধার মামলাটিও রেকর্ড করা হবে।আকরামুল ইসলাম/এএম/পিআর