বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব এনে তাকে দলীয় পদ থেকে অব্যহতির দাবি জানিয়েছে উপজেলার ১০টি কমিটির সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকরা। রোববার সংগঠনের অস্থায়ী কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতাকর্মীদের সঙ্গে দুর্বব্যবহার, সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে অনৈতিকভাবে অর্থ হাতিয়ে নেয়া, মাদক সেবন ও বিক্রি। এছাড়াও ফেসবুকে মাদক সেবনের ভিডিও ফাঁস হবার অভিযোগে তার অপসারণ দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য রাখেন, ভাটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মোরশেদুল বারী। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান একজন মাদকাসক্ত ও মাদক বিক্রেতা হিসেবে পরিচিত। এর আগে আনিছুর রহমানের মাদক সেবনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভিন্ন সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়। তিনি বলেন, দলীয় পদের অপব্যবহার করে আনিছুর মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা তার মাদক সেবন ও বিক্রির বিরোধিতা করায় নেতাকর্মীদের অশালীন মন্তব্য ও মারপিটের শিকার হতে হচ্ছে।সংবাদ সম্মেলনে তিনি অবিলম্বে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানকে পদ থেকে অপসারণসহ দলের প্রাথমিক সদস্য পদ থেকেও অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানান। একই সঙ্গে তিনি মাদকাসক্ত উপজেলা যুবলীগের সভাপতি তপন চন্দ্র মোহন্ত দুলালের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে বলেন, তা না হলে সামাজিক মান মর্যাদার কথা বিবেচনা করে আমাদেরকেই সংগঠন থেকে পদত্যাগ করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, ভাটগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মোতাহার হোসেন, বুড়ইল ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি কালিপদ প্রামাণিক, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমান আলো, থালতা মাজগ্রাম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা একরাম আলী, সাধারণ সম্পাদক নিকুঞ্জ কুমার, সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মোখলেছুর রহমান মিন্টু, সাধারণ সম্পাদক সোহেল রানা সোহাগ, ভাটরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মাসুম, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি প্যানেল মেয়র আনিছুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মুকুল হোসেন, কৃষকলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক সাঈদ রায়হান মানিক, স্বেচ্ছা সেবকলীগের সভাপতি মামুনুর রশিদ, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম বাদশা, ছাত্রলীগের সভাপতি আবু সাঈদ, সাধারণ সম্পাদক কামরুল হাসান সবুজ, পৌর ছাত্রলীগের সভাপতি মশিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক তৌহিদুল ইসলাম।অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের মুঠাফোনে কয়েক দফা যোগাযোগ করা হলেও তিনি কোনো ফোন ধরেননি। নন্দীগ্রাম উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহেদুর রহমান তাকে মাদক সম্রাট উল্লেখ করে বলেন, সাধারণ সম্পাদক আনিছুর রহমানের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও অব্যহতি চেয়ে আমার মাধ্যমে একটি চিঠি জেলা কমিটির কাছে দেয়া হয়েছে।লিমন বাসার/এমএএস/জেআইএম