বিষমুক্ত ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে থাই পেয়ারা চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের গোপালরায় গ্রামের চাষি নুরুল হক (৫০)। পেয়ারা বাগান করে পাল্টে গেছে তার জীবন। ওই এলাকার মাটির উর্বরতা ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকার পাশাপাশি ভালো চারা, জৈব সার, সেচ ও নিয়মিত পরিচর্যা করায় এ সাফল্য পেয়েছেন তিনি। চেষ্টা, পরিশ্রম আর একাগ্রতার মাধ্যমে ভাগ্য বদলের এক সফল উপাখ্যানের নায়ক গোপালরায় গ্রামের নুরুল হক। কঠোর পরিশ্রম আর সাধনার বিনিময়ে তিনি সৃষ্টি করেছেন তার স্বপ্নের কৃষি খামার। তার সফলতায় কৃষিতে বিপ্লব ঘটেছে গোপালরায় গ্রামসহ আশেপাশের সকল গ্রামে। নুরুল হক প্রায় ৭ একর জমিতে এ থাই পেয়ারা চাষ করেছেন। প্রতি সপ্তাহে এসব পেয়ারা বিভিন্ন জেলা ও উপজেলার পাইকার, আড়ৎদাররা বাগান থেকে কিনে দেশের বিভিন্ন শহরে নিয়ে যাচ্ছে। থাই পেয়ারা বিক্রি করে বাগানের খরচ বাদ দিয়ে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় করেছেন বলে ওই কৃষক জানান। নুরুল হক নিজের ও লিজ নেয়া প্রায় ৭ একর জমিতে এ থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেন। জেলা ও উপজেলার কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে চাষ করায় পেয়ারা সুস্বাদু এবং অধিক লাভজনক হয়েছে বলে জানান চাষি নুরুল হক।২০১২ সালের শেষের দিকে এ থাই পেয়ারা চাষ শুরু করেন তিনি। ভালো ফল পেতে নাটোর, পাবনা, চাঁপাইনবাবগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকার বাগানও পরিদর্শন করেছেন। চারা রোপনের ১০ মাস পরেই তার পেয়ারা গাছে ফল আসে। বাগানের প্রতিটি থাই পেয়ারার ওজন ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম।প্রতিটি গাছে কমপক্ষে ২৫ কেজি পেয়ারা পাওয়া যাচ্ছে। খেতে খুব সুস্বাদু। প্রতি কেজি পেয়ারার পাইকারি দর ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এছাড়া খুচরা ১১০ টাকা থেকে ১২০ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে। নিয়মিত পরিচর্যা করে চাষ করলে প্রতিটি থাই গাছ থেকে এক হাজার টাকার অধিক লাভবান হওয়া যায়। তার বাগানে এখন ৪ হাজার ৪শ গাছ রয়েছে এবং প্রতিটিতেই ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতি ব্যবহার করে বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ হচ্ছে। এরই মধ্যে থাই পেয়ারার ৪ হাজার কলম চারা করা হয়েছে। প্রতিনিয়তই বাগান দেখার জন্য কৃষি বিভাগের বিভিন্ন কর্মকর্তারা পরিদর্শন করেন এবং পরামর্শ দেন। চাষি নুরুল হক জাগো নিউজকে বলেন, আমি ছোট থেকেই বৃক্ষ প্রেমীক। গাছ লাগানো আমার নেশা। তাই নেশায় পড়ে আমি আজ সফল। পেয়ারা বাগানের পেয়ারা ও পেয়ারা গাছের কলম বিক্রি করে লাখ লাখ টাকা গুনছি। কালীগঞ্জ উপজেলা কৃষি অফিসার নজরুল ইসলাম জানান, ফ্রুট ব্যাগিং পদ্ধতিতে জৈব সার ব্যবহার করে বিষমুক্ত থাই পেয়ারা চাষ করায় এটা যেমন সুস্বাদু তেমনি লাভজনক। নুরুল হকের এ থাই পেয়ারা বাগান অনেকের কাছে অনুকরণীয় হয়ে উঠেছে।রবিউল হাসান/এফএ/এমএস