বগুড়ার শেরপুরে পুলিশের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে নিহত নব্য জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডার আমিজুল ইসলাম ওরফে আল-আমিন ওরফে রনির মরদেহ নেয়নি তার পরিবার। শুক্রবার রাতেও আমিজুল ইসলামের মরদেহ মর্গে পড়ে ছিল। স্বজনদের কেউ তার মরদেহ নিতে আসেনি।বুধবার রাতে নিহত হওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে মরদেহের ময়নাতদন্ত হয়।শেরপুর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মো. এরফান জানান, রাজশাহীর গোদাগাড়ি উপজেলার বুজরুক রাজারামপুর গ্রামের দুরুল হকের ছেলে আমিজুল আগে শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিল। সম্প্রতি আমিজুল নব্য জেএমবিতে যোগদান করে। ওই গ্রামে পালক বাবা আতাউর রহমানের বাড়িতে থাকতো আমিজুল।তিনি আরও জানান, সেখানে জেএমবি সদস্যের গোপন বৈঠক হতো এবং প্রশিক্ষণ দেয়া হতো। দক্ষতার কারণে আমিজুলকে জেএমবির সামরিক শাখার উত্তরাঞ্চলীয় কমান্ডারের দায়িত্ব দেয়া হয়েছিল।আমিজুল শেরপুরের মহিপুর জুয়ানপুর কুটিরভিটা গ্রামে গ্রেনেড বিস্ফোরণ মামলার সন্দেহভাজন আসামি ছিল বলেও জানান ওসি।পুলিশ সূত্র জানায়, বগুড়া ডিবি ও শেরপুর থানা পুলিশের একটি দল খবর পেয়ে মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে রাজশাহীর গোদাগাড়ির বুজরুক রাজারামপুর গ্রাম থেকে আমিজুলকে গ্রেফতার করতে যায়।ওই সময় বগুড়া ডিবি পুলিশের কনস্টেবল আবদুস সালাম ও ইসমাইল হোসেনকে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় আমিজুল। পরে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে বগুড়ায় নিয়ে আসে।তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী পুলিশ বুধবার গভীর রাতে অস্ত্র উদ্ধারে বের হয়। রাত ৩টার দিকে শেরপুরের জামনগর এলাকায় গেলে আমিজুলের সঙ্গীরা তাকে ছিনিয়ে নিতে গুলিবর্ষণ শুরু করে। একপর্যায়ে সে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যায়।বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল ক্যাম্পাসে স্থাপিত ছিলিমপুর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ টিএসআই শাহ আলম জানান, বৃহস্পতিবার দুপুরে আমিজুলের মরদেহের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তার কোনো স্বজন মরদেহ নিতে আসেনি। কেউ নিতে না এলে মরদেহ দাফনের জন্য আঞ্জুমান-ই-মফিদুল ইসলামকে দেয়া হবে।এআরএ/এমএস