রোগীর ছেলেকে মারধর করে আহত করার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ঘোষণা বাতিলের দাবিতে এবার মাঠে নেমেছেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (শজিমেক) ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। অভিযুক্ত চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের শাস্তির পর তিনদিনেও কাজে ফেরেনি তারা। চিকিৎসা সেবা অচলাবস্থার মধ্যে ফেলে সহকর্মী চারজনের শাস্তি বাতিলসহ সাত দফা দাবিতে শনিবার বেলা ১১টায় হাসপাতালের মূল ফটকে মানববন্ধন করেন তারা।এ ব্যাপারে আন্দোলনরত ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কেউই মিডিয়াতে বক্তব্য দিতে রাজি হননি। তাদের পক্ষ থেকে আন্দোলন কমিটির মুখপাত্র শাস্তিপ্রাপ্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক কুতুব উদ্দিন বলেন, অবিলম্বে শজিমেক হাসপাতাল ইন্টার্ন চিকিৎসকদের স্থগিতাদেশ এবং বদলির নির্দেশসহ সাত দফা দাবি মেনে নিতে হবে। সাত দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, সকল চিকিৎসকদের নিরাপত্তা বিধান, রোগীর লোক যারা ঘটনা ঘটিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ, হাসপাতালেল নিরাপত্তা নিশ্চিত, অতিরিক্ত আনসার মোতায়েন, হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়িতে একজন সাব ইন্সপেক্টর নিয়োগ, মেডিকেলে কোনো ঘটনা ঘটলে কর্তৃপক্ষকে নিজ উদ্যোগে মামলা করা এবং ব্যর্থ হলে কর্তৃপক্ষ দায়ভার নিয়ে পদত্যাগ করা। কুতুব উদ্দিন উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, আমাদের যৌক্তিক দাবি মেনে নিয়ে আমাদের বিরুদ্ধে দেয়া শাস্তি প্রত্যাহার করতে হবে। আমাদের কর্মস্থলে ফিরে নিতে যা যা প্রয়োজন কর্তৃপক্ষ তা করবে। আমাদের দাবি মেনে না নিলে ধর্মঘট চলছে, চলবেই। আমরা একশ ৩০ জন ইন্টার্ন চিকিৎসক। আমরাই হাসপাতালের প্রাণ। আমাদের বাদ দিয়ে কিছু করা যাবে না। অন্যথায় দাবি আদায়ে বৃহত্তর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। এদিকে উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ে শনিবার সকাল ৯টায় শজিমেক হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে হাসপাতালের চিকিৎসা সেবা সচল রাখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আলোচনা করেন। এর আগে শুক্রবার বিকেলে জরুরি সভা আহ্বান করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কাজে যোগ দিতে অনুরোধ করলেও তারা সে অনুরোধ রাখেননি। শজিমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মাসুদ আহসান বলেন, আমরা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তারা কাজে যোগ দেয়নি। যার কারণে শনিবার হাসপাতালের বিভাগীয় প্রধান এবং রেজিস্ট্রারদের নিয়ে পরিচালনা কমিটির সভা করা হয়। সভায় চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করতে যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেয়া হয়েছে। চিকিৎসা সেবার কোনো ঘাটতি হচ্ছে কি না সেটি দেখার জন্য আট সদস্য বিশিষ্ট পৃথক দুটি মনিটরিং টিম গঠন করা হয়েছে। ওই মনিটরিং টিম হাসপাতাল ঘুরে চিকিৎসা ব্যবস্থা দেখবে। যদি কোথাও চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হয় তাহলে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, এই হাসপাতালে দুইশ জনের মত চিকিৎসক রয়েছেন। ফলে চিকিৎসার কোনো সমস্যা হবে না। এর আগে শনিবার বেলা ১১ টা থেকে দুপুরে ১২ টা পর্যন্ত এক ঘণ্টা হাসপাতালের মূল ফটকে বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড নিয়ে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কাজে যোগদান না করে মানববন্ধন করেন। মানববন্ধন থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা নানামুখি দাবি উত্থাপন করেন।উল্লেখ্য, সিরাজগঞ্জ থেকে এই হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা আলাউদ্দিন সরকার নামে এক রোগীর ছেলে রউফ সরকার গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ইন্টার্ন চিকিৎসকদের মারধরের শিকার হন।এ ঘটনা তদন্তের পর চার ইন্টার্ন চিকিৎসকের ইন্টার্নশীপ ছয় মাসের জন্য স্থগিত করে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সাজার মেয়াদ শেষে তাদের চারটি ভিন্ন মেডিকেলে ইন্টার্নশীপ শেষ করার নির্দেশ দেয়া হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এই ধরনের কাজ করলে তাদের পেশাগত সনদ বাতিল করা হবে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। এই ঘোষণার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কোনো ঘোষণা ছাড়াই কর্মবিরতিতে যান। আরএআর/জেআইএম