দক্ষিণাঞ্চলের নদী পথের অন্যতম নৌ-যোগাযোগের প্রধান ঘাট কাউখালী লঞ্চঘাট। ব্রিটিশ আমল থেকেই আন্তঃদেশীয় এবং মংলা খুলনা ঢাকাসহ বিভিন্ন অঞ্চলের নৌ-যোগাযোগের ঐতিহ্যবাহী লঞ্চ ঘাট কাউখালী। দীর্ঘ যোগাযোগের সড়ক যোগাযোগ উন্নতি হওয়ার পরে যাত্রীর সংখ্যা কিছুটা হ্রাস পেলেও লঞ্চঘাটটি তার পুরোনো ঐতিহ্য ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। কিন্তু ঘাটের পল্টুনটির ওপরের অংশ ফেটে দুই ভাগ হয়ে দীর্ঘ দিন পড়ে থাকায় এখন মৃত্যুকুপে পরিণত হয়েছে। পল্টুনটি ফেটে যাওয়ায় ওপর থেকে নিচে ৫ ফুট গভীরে চলে যাওয়ায় যাত্রীরা যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনায় পড়তে পারে। প্রতিদিনই লঞ্চ থেকে উঠানামার সময় ছোট বড় দুর্ঘটনা ঘটে। পল্টনটি পরিবর্তন করার জন্য স্থানীয়ভাবে বিআইডাব্লিউটিএ’র কাছে বার বার ধরণা দিলেও অজানা করণে পল্টুনটি পরিবর্তন করে নুতন পন্টুন স্থাপন করা হয়নি। গত ১৩ জানুয়ারি বিআইডাব্লিউটিএ’র পরিচালক মো. শাহজাহান হোসেন এটি পরিদর্শনে এসে বাস্তবতা দেখে দ্রুত পরিবর্তনের আশ্বাস দিলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। ঐতিহ্যবাহী এই কউখালী নদী বন্দরের লঞ্চঘাট থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ সুপারিসহ বিভন্ন ধরনের কাচা মাল আমড়া, ডাব, কলা, তাল, চালতা ও পান দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রেরণ করা হয়। এছাড়া এই ঘাট থেকেই ঢাকা ও চট্টগ্রাম হয়ে সরাসরি বিদেশেও মালামাল পাঠানো হয়। প্রতিদিন ঢাকা, চাঁদপুরগামী ৫টি লঞ্চ যাতায়াত করে এবং ছোট বড় প্রায় ১০ থেকে ১২টি লঞ্চ বিভিন্ন রুটে চলাচল করে। অথচ বিআইডাব্লিউটিএ কর্তৃপক্ষ প্রতি বছর ১২ থেকে ১৫ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় করলেও নামমাত্র পল্টুনের সংস্কার করে যাত্রীদের দুর্ভোগে ফেলে। অভিযোগ রয়েছে প্রতি বছর লাখ লাখ টাকা সংস্কারের জন্য ব্যয় করলেও পল্টনটির স্থায়ী কোনো সমস্য সমাধান হচ্ছে না। হাসান মামুন/এএম/জেআইএম