সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, রাস্তায় কেবল লেন বাড়িয়ে লাভ নেই। রাস্তার যানজট নিরসনে ট্রাফিক ব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে। গাজীপুর চৌরাস্তা হতে ঢাকা পর্যন্ত ছয় লেনের রাস্তা থাকলেও যানজটের তেমন উন্নতি হয়নি। যানজট নিরসনে পুলিশ ও প্রশাসনের সহযোগিতা প্রয়োজন। মন্ত্রী শুক্রবার দুপুরে গাজীপুরের শ্রীপুরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উপর নির্মিত মাওনা ফ্লাইওভার পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের কাছে এ কথা বলেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাইরে কোনো মহাসড়কের উপর মাওনা ফ্লাইওভারটি হবে প্রথম ফ্লাইওভার। মন্ত্রী বলেন, এ ফ্লাইওভারটি শ্রীপুর-কালিয়াকৈর সংযোগকারী আঞ্চলিক মহাসড়কের সংযোগস্থল মাওনার তীব্র যানজট নিরসন করবে। পাশাপাশি বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা ও দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি সাধিত হবে। সামগ্রিকভাবে ঢাকা-ময়মনসিংহ অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজতর, দ্রুত ও নিরাপদ হবে।এ সময় অন্যাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী অ্যাডভোকেট আকম মোজাম্মেল হক এমপি, যোগাযোগ সচিব এমএএন সিদ্দিক, সওজের প্রধান প্রকৌশলী মো. ফিরোজ ইকবাল, প্রকল্প পরিচালক কর্নেল ইফতেখার আনিস, জেলা প্রশাসক মো. নূরুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ পিপিএম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী (ঢাকা জোন) আফতাব উদ্দিন খান, প্রজেক্ট ডাইরেক্টর হাফিজুর রহমান, প্রজেক্ট ম্যানেজার মনোয়ারুজ্জামান, গাজীপুর সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সবুজ উদ্দিন খান, আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, গাজীপুর মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আজমত উল্লাহ খান, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম, আওয়ামী লীগ নেতা ইকবাল হোসেন সবুজ, গাজীপুর সিটি কর্পোরেশনের ভারপ্রাপ্ত মেয়র আসাদুর রহমান কিরণ, শ্রীপুর পৌর মেয়র আনিছুর রহমান প্রমুখ।ওবায়দুল কাদের জানান, বৃহত্তর ময়মনসিংহ অঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য স্থানের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুততর, যানজট মুক্ত, নিরাপদ ও আর্থসামজিক উন্নয়নের লক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত জয়দেবপুর-ময়মনসিংহ সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পটি জুলাই ২০১০ সালে একনেক কর্তৃক অনুমোদিত হয়। প্রকল্পের আওতায় জয়দেবপুর হতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ মোড় পর্যন্ত সর্বমোট ৮৭ দশমিক ১৮ কিলোমিটারের মধ্যে জয়দেবপুর চৌরাস্তা হতে নয়নপুর পর্যন্ত ৩০ দশমিক ২৫ কিলোমিটার উন্নয়নের কাজ গত ২০১৩ সালের এপ্রিল মাসে শুরু হয়। এই কাজটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্পেশাল ওয়াকার্স অর্গানাইজেশন পশ্চিম এর নিয়ন্ত্রণাধীন ১৭ ইবিসিকে বাস্তবায়নের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পের মধ্যে ২৭ কিলোমিটার জায়গা জুড়ে মাওনা ফ্লাইওভারটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৩ সালের ২৬ অক্টোবর ফ্লাইওভারটির নির্মাণ কাজ শুরু করে নির্ধারিত সময়ের তিন মাস আগেই এর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। ৯০ মিটার দৈর্ঘ্য এবং ১৯ মিটার প্রস্থের চার লেন বিশিষ্ট এ ফ্লাইওভারটি নির্মাণে ব্যয় হয় প্রায় ৭০ কোটি টাকা।এমজেড/বিএ/পিআর