একজন সফল নারী উদ্যোক্তার নাম মাহেনুর বেগম (লাকি)। তিনি একজন স্ত্রী, একজন মা, একজন গৃহিণী। তিনি যেমন করে তার সন্তানদের কথা ভাবেন, ঠিক তেমনই ভাবেন তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ৪৫ জন শ্রমিকদের কথা। ভাবেন সাধারণ মানুষের কল্যানের কথা। নিজের মেধা, মননশীলতা ও কর্মনিষ্ঠার কারনে পটুয়াখালীর মানুষের কাছে একটি আলোচিত এবং আলোকিত মুখ। কিশোর বয়স থেকেই যার স্বপ্ন ছিল কিছু একটা করবেন। কিন্তু তা আর হল না। বসতে হলো বিয়ের পিঁড়িতে। দশম শ্রেণিতে পড়া অবস্থায় বিয়ে হয় যায় তার। বর্তমানে দুই ছেলের জননী তিনি। বড় ছেলে মঈন সরোয়ার কিয়াম বিপিপি লন্ডনে ব্যারিস্টারি পড়ছে। ছোট ছেলে মুবদি সরোয়ার সওম আই ইউ বি ইউনিভার্সিটিতে বিবিএ পড়ছেন। তিনি বিয়ের পর থেকে সংসারের সব কাজ করার পাশাপাশি নিজের পায়ে দাঁড়ানোর চেষ্টা করতেন। এমনকি নিজের স্বামীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থাকা সত্ত্বেও চাকরি করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। পরে অবশ্য মতো পাল্টে ছোট পরিসরে অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে ১৯৮৫ সালে বনানী ট্রের্ডাসের মাধ্যমে তিনি ব্যবসায় পা রাখেন। সেই থেকে শুরু করে আজ তিনি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী, সফল নারী উদ্যোক্তা।মাহেনুর বেগম লাকির বাবা মৃত. আলহাজ নুরুল ইসলাম (পান্না) ছিলেন বরিশালের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। স্বামী আলহাজ গোলাম সরোয়ার (ফোরকান মিয়া) শুরু থেকেই ছিলেন একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। স্বামীর সঙ্গে পরামর্শ করে ছোটবেলার সেই স্বপ্ন পূরণের পথে যাত্রা করেন মাহেনুর বেগম লাকি। সেই যাত্রা থেকে আজ অবধি তিনি এ ব্যবসাকে আঁকড়ে ধরে আছেন। তাই স্বামী-স্ত্রী দুইজনে মিলে তাদের এখনকার ইটভাটা, বিভিন্ন কোম্পানির ডিলারশিপের ব্যবসাসহ অন্যান্য ব্যবসা দিতে সক্ষম হয়েছেন। মাহেনুর বেগম লাকির মূলত ব্যবসা-বাণিজ্যে নিজেকে সফল করেছেন বেশ ক’টি প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার হয়ে। তিনি একাধারে শাহিদা ব্রিক্স, রুপালি ফিলিং স্টেশন, এসকে ফিলিং স্টেশন এবং অলাভজন প্রতিষ্ঠান টেলিটক বাংলাদেশ লি. অনুমোদিত পটুয়াখালীর ডিলারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।এসব বিষয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। তিনি বললেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাত ধরে দেশ এগোচ্ছে। আমি স্বপ্ন দেখি, একদিন বাংলাদেশ সারা বিশ্বের মধ্যে উন্নত দেশ হবে। সরকারি ও বেসরকারি সমন্বয়ে আমরা যে কোথায় যেতে পারি তা মাঝে মাঝে আমি ভাবি। আমি বিশ্বাস করি, নারীদের সচেতনতার পাশাপাশি সুশাসন ও মানবাধিকার নিশ্চিত হলে আমরাই বদলে দিতে পারি এই দেশটাকে। যারা নিয়মিত অফিস করেন তাদের বছরে দুই ঈদে, পহেলা বৈশাখে বোনাস প্রদান করা হয়। আমার শ্রমিকরা অসুস্থ হলে চিকিৎসা দেয়া হয়। আমি শ্রমিক কর্মচারীদের সুখে-দুঃখে সব সময় পাশে থাকার চেষ্ট করি।তিনি আরও বলেন, আল্লাহ আমাকে যতটুকু সামর্থ্য দিয়েছে আমি চেষ্টা করি আমার চারপাশের অসচ্ছল হতদরিদ্রদের জন্য কিছু একটা করার। নিজের মনের প্রশান্তির জন্য আমি সমাজসেবা করি। তিনি আরও বলেন, যখন দেখি, আমার কিংবা আমাদের কোনো সহযোগিতার জন্য দুস্থ মানুষটির মুখে হাসি ফুটে উঠছে তখন যে কি সুখ পাই- তা ভাষায় বোঝাতে পারব না। মানুষ হিসেবে আমি কতটা সামাজিক, সমাজবান্ধব সেটাই আমার পরিচয় নিশ্চিত করে। আর আমার কাছে সফলতা মানে সন্তুষ্টি, তৃপ্তি, শান্তি। আপনি পৃথীবীর সবচেয়ে ধনী মানুষ হতে পারেন, কিন্তু তাতে আপনার সন্তুষ্টি, তৃপ্তি, শান্তি নাও থাকতে পারে। কিন্তু আমার কাছে সন্তুষ্টি, তৃপ্তি, শান্তিটাই সফলতা।মহিব্বুল্লাহ্ চৌধুরী/এএম/জেআইএম