দেশজুড়ে

আর একটি দিন থাকলো না ইমন

মাত্র আট বছর বয়স ইমনের। দীর্ঘদিন ধরে অুসস্থ ছিল। এলাকায় অনেক ডাক্তারের কাছে গেছে কিন্তু কেউ তার সমস্যা বুঝে উঠতে পারেনি। ২০ দিন আগে সিটিস্ক্যান করার পর জানতে পারে ইমনের ব্রেন টিউমার হয়েছে। এ কথা শোনার পর থেকেই যেন বাবা-মায়ের মাথায় আকাশ ভেঙে পড়েছে।বাবা ইদ্রিস আলী একজন রাজমিস্ত্রি। কোনো রকমে সংসার চলে তার। একমাত্র ছেলেকে চিকিৎসা করাতে বাড়িতে থাকা গুরু-ছাগল বিক্রি করে গত ৫ মার্চ রোববার ইমনকে নিয়ে আসেন রাজধানীর আগারগাঁও নিউরোসায়েন্স ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে।সেখানে ৭২৫ নম্বর ওয়ার্ডের ৮নং বেডে ভর্তি করা হয় তাকে। চিকিৎসকরা বৃহস্পতিবার ইমনের যাবতীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আগামীকাল শনিবার অপারেশনের দিন ধার্য করেন। কিন্তু অপারেশনের একদিন আগেই মৃত্যুর কাছে হেরে যায় ইমন।শুক্রবার বেলা সাড়ে ৩টার দিকে কর্তব্যরত ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ছেলের মৃত্যুর খবর জেনে কান্নায় ভেঙে পড়েন বাবা-মা। নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলার দুবলা ইউনিয়নের বিষনংচর গ্রামের ইদ্রিস আলী ও মা এখন নিউরোসায়েন্স হাসপাতালে প্রায় সঙ্গাহীন। কথা বলা সম্ভব হয়নি তাদের সঙ্গে। পাশের বেডের নারগিস আক্তার জানান, সকাল থেকেই খিচুনি হচ্ছিলো ইমনের। সারাদিন কোনো ডাক্তার ইমনকে দেখতে রাউন্ডে আসেনি। ৩টার দিকে হঠাৎ ইমনের কোনো সাড়া-শব্দ না পেয়ে বাচ্চাটির মা নার্সদের ডেকে আনে। তারপর ডাক্তার এসে ইমনকে মৃত ঘোষণা করেছেন।তিনি জানান, আর একটি দিন থাকলো না ইমন। অপারেশন হলে হয়তো বেঁচে যেত সে।তবে বৃহস্পতিবার জাগো নিউজের এই প্রতিবেদকের সঙ্গে কথা হয় ইমনের বাবার। তিনি বলেন, অনেক কষ্ট করে টাকা জোগাড় করে একমাত্র ছেলেকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এনেছেন। ছেলেটা আমাকে খুব ভালোবাসে। আমাকে ছাড়া কিছু বোঝেই না। স্বর্বস্ব দিয়ে হলেও ছেলের চিকিৎসা করাবেন বলে জানান। আকরামুল ইসলাম/এমএএস/এমএস