নৌপরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকে সম্প্রসারিত রেল লাইন ঘুমধুম এসে সমাপ্ত হবে। তখন এটি হবে এশিয়ান হাইওয়ের প্রবেশ দ্বার। এ কারণে সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে অবিলম্বে ঘুমধুমে স্থলবন্দর হবে। কক্সবাজারে চলমান উন্নয়ন যজ্ঞে এটি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আরেকটি উপহার। শুক্রবার সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ সড়কে পাশ্ববর্তী ঘুমধুম সীমান্তের স্থলবন্দরের জায়গা পরিদর্শন শেষে বাংলাদেশ মিয়ানমার মৈত্রী সড়ক সংযোগ স্থলে এক পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। নৌপরিবহন মন্ত্রী বলেন, সরকার সেন্টমার্টিন, কক্সবাজার ও পার্বত্য অঞ্চলকে ঘিরে বিশেষ পর্যটন স্পট গড়ে তোলার উদ্যোগ নিয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে এখানে দেশ-বিদেশের পর্যটকদের আগমন বাড়বে। গতিশীল হবে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড। সৃষ্টি হবে নতুন নতুন কর্মসংস্থান। শাজাহান খান বলেন, কাগজ-কলমে দেশে ২৩টি স্থলবন্দর থাকলেও চালু রয়েছে ১০টি । সরকার সব স্থলবন্দরকে গতিশীল করতে তৎপরতা চালাচ্ছে। আগামী নির্বাচনেও নৌকার জয় নিশ্চিত করে শেখ হাসিনাকে পুনরায় ক্ষমতায় বসিয়ে এ ধারা অব্যহত রাখতে সবার প্রতি আহ্বান জানান তিনি।মন্ত্রী আরো বলেন, আগামী ২০৩০ সালে বিশ্বের খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণ ৩০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশও স্থান করে নেবে। এ জন্য আগামী জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে আবারো ক্ষমতায় আনার লক্ষ্যে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, রোহিঙ্গা একটি আন্তর্জাতিক সমস্যা এ নিয়ে জাতিসংঘসহ বিশ্বের বিভিন্ন দাতা সংস্থা কাজ করছে। আমাদের সঙ্গে মিয়ানমারের সুসম্পর্ক রয়েছে বিধায় দ্রুত স্থলবন্দর বাস্তবায়নের পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। এরপর বেলা ১১ টার দিকে টেকনাফ স্থলবন্দরে পৌঁছে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠকে বসেন মন্ত্রী। পরে টেকনাফ নদীবন্দর ও স্থলবন্দরের বিভিন্ন স্থাপনা ও জেটি পরিদর্শন করেন। বৈঠকে সীমান্ত বাণিজ্য ব্যবসায়ী, বন্দর পরিচালনা সংস্থা ও পরিবহন সেক্টরের প্রতিনিধিরা জাহাজজট নিরসনকল্পে একাধিক জেটি নির্মাণ, চালক, হেলপারদের বিশ্রামাগারসহ বিদ্যমান নানা সমস্যার কথা তুলে ধরে সমাধানের দাবি তুলেন। এসময় মন্ত্রী যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়ে বলেন, মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণে নৌ-বন্দর প্রতিষ্ঠা করা হবে। বৈঠক শেষে মন্ত্রী সেন্টমার্টিনের উদ্দেশ্যে টেকনাফ ত্যাগ করেন। বিকেল সোয়া ৩টায় সেন্টমার্টিনে বিআইডব্লিউটিএর জেটির কাজ পরিদর্শন ও সেন্টমার্টিন লাইট হাউজের ভিত্তিপ্রস্থর স্থাপন করেন মন্ত্রী। এসময় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় সচিব অশুক কুমার রায়, স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আলমগীর, নৌপরিবহন অধিদফতরের মহা পরিচালক কমোডর আরিফ, বিআইডাবিøউটিএর চেয়ারম্যান কমোডর মোজাম্মেল হক, কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আফরাজুল হক টুটুল, বান্দরবান জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি কৈসল্য মারমা, পার্বত্য জেলা প্রশাসক দিলিপ কুমার ভৌমিক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। সায়ীদ আলমগীর/আরএআর/জেআইএম