কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার বুক চিরে এঁকে বেঁকে গিয়ে বঙ্গোপসাগরে মিশেছে প্রবহতা মাতামুহুরী নদী। বান্দরবানের পূর্বের পাহাড়ের পাদদেশ থেকে বয়ে আসা এ নদীর বুকেই চকরিয়ার চিরিঙ্গা অংশে বৃটিশ আমলে নির্মিত মাতামহুরি ব্রিজ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে পূর্ণতা দিয়েছে। সেই ব্রিজটির নিচের একটি পিলারে ফাটল দেখা দিয়েছে। মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়া ও ভারি যানবাহন যাতায়াত করার কারণে এ ফাটল দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। এতে যে কোনো মুহূর্তে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকির মধ্যেই অব্যাহত রয়েছে যান চলাচল।জানা যায়, ১৯ শতকের মাঝামাঝি সময়ে চট্টগ্রামসহ দেশের অন্য এলাকার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ তরান্বিত করতে আরকান সড়কের কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার চিরিঙ্গায় মাতামুহুরী নদীর উপর নির্মাণ করা হয় জন গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটি। তিনশ মিটার দৈর্ঘ্যের ব্রিজটি নির্মাণে সময় লেগেছে প্রায় চার বছর। ব্রিজটির বয়স ৬০ পার করেছে আরো কয়েক বছর আগেই। কার্যকারিতার মেয়াদ শেষ হয়েছে অনেক আগেই। সেই থেকে ব্রিজটির উপর দিয়ে যানবাহন চলাচল করছে চরম ঝুঁকির মধ্যে। সরেজমিন দেখা গেছে, ব্রিজটির নিচে একটি পিলারের জোড়ায় ফাটল দেখা দিয়েছে। পিলারের উপরিভাগে প্রায় তিন ফুটের মতো লম্বা ফাটল ধরেছে। ঝরে গেছে মধ্যখানের কিছু অংশ। চরম ঝুঁকির মধ্যে ব্রিজ দিয়ে চলাচল করছে শত শত যানবাহন। তবে, পিলারটিতে কখন ফাটল দেখা দিয়েছে তা জানেনা দেখভালের দায়িত্বে থাকা সওজ কর্তৃপক্ষ। তারা পরিদর্শনের পর ব্যবস্থা নেবে বলে উল্লেখ করেছে। কিন্তু কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ এ ব্রিজটি বর্তমান দশায় উদ্বিগ্ন স্থানীয় ও চলাচলকারী যানবাহন মালিক-শ্রমিকরা। চকরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি জাফর আলম এমএ বলেন, বিগত বছর ছয়েক আগে ব্রিজের মাঝ খানে একটি অংশ দেবে যায়। সেখানে আলাদা পাটাতন দিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। বলতে গেলে জোড়াতালি দিয়েই চলছে ব্রিজটি। আমরা চেষ্টা করছি ব্রিজটি দ্রুত সংস্কার করতে। কারণ এটি অকেজো হয়ে গেলে বন্ধ হয়ে যাবে নিরবিচ্ছিন্ন যোগাযোগ। কক্সবাজার বাঁচাও আন্দোলন ও সিভিল সোসাইটি সভাপতি আবু মোরশেদ চৌধুরী খোকা বলেন, দেশের যেকোনোপ্রান্ত থেকে সড়কপথে সরাসরি কক্সবাজার পৌঁছাতে হলে মাতামুহুরী ব্রিজটির গুরুত্ব অপরিসীম। এছাড়া জেলা সদরে যেতে পেকুয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়ার কয়েক লাখ মানুষ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ক ব্যবহার এবং অধিকাংশই এ ব্রিজ দিয়েই চলাচল করেন। এছাড়া জেলা থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে লবণ, মাছ, তরিতরকারি, সবজি, শুটকি, আসবাবপত্র যানবাহনে নিয়ে যেতে এ ব্রিজই একমাত্র ভরসা। ফলে যে কোনো মুহূর্তে দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই পর্যটনের স্বার্থে এটি দ্রুত মেরামত করা জরুরী। কক্সবাজার সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী রানা প্রিয় বড়ুয়া জানান, মাতামুহুরী ব্রিজের পিলারে ফাটল দেখা দেয়ার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। তবে কোনো পিলারটি ফেটেছে দেখার পর মেরামত করা হবে।এমএএস/এমএস