দেশজুড়ে

নওগাঁয় ছাত্রলীগকর্মী খুন : আটক ৩

নওগাঁ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার বিভাগের ষষ্ঠ সেমিস্টারের ছাত্র ও ছাত্রলীগকর্মী আহত শ্যামল চন্দ্র রায় (২০) মারা গেছেন। হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে তিনজনকে ইতোমধ্যে আটক করা হয়েছে। শনিবার দুপুরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়ার পথে শ্যামল চন্দ্র মারা যান। শ্যামলের মারা যাওয়ার ঘটনা জানাজানি হলে ছাত্রলীগ ও তার সহপাঠীরা দুপুরে পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট এলাকায় সড়ক অবরোধ, বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে। এ সময় ছাত্ররা জড়িতদের ফাঁসিসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। শ্যামল জেলার পত্নীতলা উপজেলার সোনাপুর গ্রামের গোপাল চন্দ্রের ছেলে। ছাত্র ও পুলিশ জানিয়েছে, পলিটেকনিক কলেজে ছাত্রলীগের দুই গ্রুপের প্রভাব বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন থেকে দ্বন্দ্ব চলে আসছিল। গত কয়েক মাস আগের মারপিট ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, শ্যামল চন্দ্র পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের পাশের একটি ম্যাচে থাকতেন। শুক্রবার রাত ১০টার দিকে ম্যাচে যাচ্ছিলেন। পূর্ব শত্রুতার জের ধরে তার পথরোধ করে অপর গ্রুপের কয়েকজন ছাত্র ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায়। শ্যামলের চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে প্রথমে নওগাঁ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।অবস্থার অবনতি হলে তাকে রাতেই চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (রামেক) স্থানান্তর করা হয়। শ্যামলের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেয়া হলে শনিবার দুপুরের দিকে পথে টাঙ্গাইল নামক স্থানে শ্যামল মারা যায়। পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ ফজলুল হক জানান, ঘটনাটি সকালে জানতে পেরে স্থানীয় প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। তবে ঘটনাটি পলেটেকনিক ইনস্টিটিউটের বাহিরে হওয়ায় কারা এর সাথে জড়িত তা এখনো জানা যায়নি। জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শাকিল আহমেদ বাদল ও জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক বিমান কুমার রায় এর হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও সুষ্ঠু বিচারের আশ্বাসের প্রেক্ষিতে অবরোধ তুলে নেয়া হয়।নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-অপারেশন) আনোয়ার হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। তবে তিনি আটকদের নাম প্রকাশ করেননি। নওগাঁ সদর থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-তদন্ত) শামসুল আলম শাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের প্রস্তুতি চলছে। প্রকৃত ঘটনা কী এবং খুনি কারা তা বের করার চেষ্টা করা হচ্ছে।আব্বাস আলী/এএম/জেআইএম