ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের রাজধানী আগরতলায় দেশটির অন্ধ্রদেশের মাছের বাজার ধরার জন্য ‘ফরমালিন ষড়যন্ত্র’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা। ফরমালিন পাওয়ার অভিযোগ এনে গত ৬ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ আমদানি বন্ধ রেখেছেন আগরতলার ব্যবসায়ীরা। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ফলে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ রফতানি ব্যাহত হচ্ছে। এতে লোকসান গুণতে হচ্ছে বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীদের।তবে বাংলাদেশি মাছ ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাংলাদেশ থেকে যে মাছ রফতানি করা হয় তার বেশিরভাগই স্থানীয় বাজার থেকে সংগৃহীত ও পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট পাওয়া। ফলে এসব মাছে ফরমালিন মেশানোর কোনো সুযোগ নেই। ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, শুধুমাত্র ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মাছের বাজার ধরতে বাংলাদেশি মাছ নিয়ে ‘ফরমালিন ষড়যন্ত্র’ শুরু হয়েছে।সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভারতীয় কর্তৃপক্ষ চাইছে বাংলাদেশ থেকে আসা মাছ এখন থেকে তারা নিজেরা পরীক্ষা করতে। এ জন্য ফরমালিন শনাক্তকরণ মেশিন আনতে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে একটি আলোচনাও হয়েছে। আগরতলার বাজার থেকে ৪০টি মাছ নমুনা হিসেবে সংগ্রহ করে ১১টিতে ফরমালিন পায় সে দেশের একটি সংস্থা। এ অবস্থায় গত ৬ মার্চ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে অনির্দিষ্টকালের জন্য মাছ আমদানি বন্ধ করে দেয় ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।স্থানীয় পর্যায় থেকে মাছ সরবরাহকারী মো. ইসমাইল বলেন, বাংলাদেশ থেকে যেসব মাছ ভারতে যায় সেগুলোর বেশির ভাগই আখাউড়া ও এর আশপাশ এলাকা থেকে সংগৃহীত। ভোর থেকে প্রক্রিয়াজাত করে এগুলো ভারতে পাঠানো হয়, যা কিছুক্ষণের মধ্যেই সেদেশের বাজারে বিক্রি হয়ে যায়। যে কারণে এসব মাছে ফরমালিন দেয়ার কোনো প্রয়োজনই নেই।এদিকে, শনিবার আখাউড়া স্থলবন্দর আমদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের সভায় মাছ রফতানি দ্রুত চালুর ব্যাপারে আলোচনা শুরু হচ্ছে। এ বিষয়ে অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল ওয়াহাবের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল আগরতলায় গিয়ে সেখানকার ব্যবসায়ীসহ কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করবেন বলে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।এ ব্যাপারে আখাউড়া স্থলবন্দর আদানি-রফতানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রাজিব উদ্দিন ভূঁইয়া জাগো নিউজকে বলেন, প্রতিদিন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রায় ৪০ লাখ টাকার মাছ আগরতলায় রফতানি করা হয়। মাছে ফরমালিনের বিষয়টি আমাদের ব্যবাসয়ীরা ষড়যন্ত্র বলেই মনে করছেন। কেননা আমাদের এখান থেকে পরীক্ষা করেই মাছ আগরতলায় রফতানি করা হয়। তবে আমরা ভারতীয় ব্যবসায়ীদের সাথে আলোচনা করে বিষয়টির সুরাহা করার চেষ্টা করছি।আখাউড়া উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. শরীফ উদ্দিন বলেন, বন্দর দিয়ে রফতানি হওয়া মাছ পরীক্ষা করে সার্টিফিকেট দেয়া হয়। এসব মাছে ফরমালিনের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আর ফরমালিন পাওয়া গেলে তো সার্টিফিকেট দেয়ার প্রশ্নই উঠে না।আজিজুল সঞ্চয়/এএম/আরআইপি