মৌসুমের শুরুতেই পাহাড়ি তরমুজে ভরপুর রাঙামাটির বাজার। রাঙামাটিতে উৎপাদিত তরমুজে জেলা সদরসহ আশেপাশের স্থানীয় বাজার সয়লাব। বড়, মাঝারি বা ছোট, যেকোনো আকারের তরমুজ টসটসে এবং স্বাদে মিষ্টি ও রসালো। রাঙামাটির পাহাড়ি এলাকায় এবার মৌসুমেও তরমুজের বাম্পার ফলন হয়েছে বলে জানান, কৃষি কর্মকর্তা ও চাষিরা।রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুম শুরুতেই জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাপ্তাইলেকে ভেসে ওঠা জমিতে ব্যাপকহারে তরমুজের চাষাবাদ হয়। সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয়ে থাকে লংগদু উপজেলায়। এছাড়া বরকল, বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি, নানিয়ারচর ও বিলাইছড়ি উপজেলাতেও চাষাবাদ করা হয়। এদিকে, প্রতি বছর উচ্চফলন পাওয়ায় রাঙামাটিতে উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয় বাজার ছাড়িয়ে বাজারজাত হয়ে যায় ঢাকা, চট্টগ্রামসহ জেলার বাইরে। তরমুজ চাষে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হচ্ছেন বহু চাষি।রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক রমণী কান্তি চাকমা বলেন, প্রতি বছর শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই লেকের পানি কমে গেলে প্রচুর আবাদি জমি ভেসে ওঠে। সেখানে প্রচুর তরমুজের আবাদ করেন স্থানীয় চাষিরা। এবার মৌসুমেও রাঙামাটিতে বাম্পার ফলন আসছে। এতে চাষিদের বিপুল অর্থনৈতিক আয়ের পাশাপাশি বিশেষ মুনাফা লাভের সুবিধা পান কৃষকরা।তিনি জানান, এ বছর জেলায় প্রায় ৬০০ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। তবে কাপ্তাই হ্রদের পানি ধীর গতিতে কমায় শুরুর দিকে চাষাবাদে সম্যস্যায় পড়েন চাষিরা। এবার মৌসুমেও জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি তরমুজের আবাদ হয়েছে লংগদু উপজেলায়। আবাদ হয়েছে টোফেল, গ্লোরি ও চ্যাম্পিয়ন জাতের তরমুজের বীজ। উপযুক্ত আবহাওয়া, জমির ঊর্বরতা এবং উন্নত চাষাবাদের কারণে রাঙামাটিতে প্রতি বছর তরমুজের বাম্পার ফলন হয় বলে জানান, এই কৃষি কর্মকর্তা। বাজার ঘুরে দেখা যায়, বর্তমানে বড় ও মাঝারি আকারের প্রতি তরমুজ বিক্রি হচ্ছে ১৫০-২০০ টাকা এবং ছোট আকারের তরমুজ ৮০-১০০ টাকায়।জেলার বরকলের কুটকুটি ছড়ার বাসিন্দা তরমুজ চাষি আবদুল জলিল বলেন, আবহাওয়া ও সঠিক পদ্ধতির চাষাবাদের কারণে এবারও তার তরমুজের ব্যাপক ফলন হয়েছে। শুরুতে দামও ভালো পাওয়া যাচ্ছে বাজারে।সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/এমএস