দেশজুড়ে

বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার নদী ও খাল

অপরিকল্পিত নদী শাসন ও নদী রক্ষায় সচেতনতা বৃদ্ধি না পাওয়ায় দিন দিন বিলীন হচ্ছে উপকূলীয় এলাকার নদী ও খালগুলো। ফলে স্থানীয় পরিবেশের উপর যেমন বিরূপ প্রভাব পড়ছে তেমনি হুমকির মুখে পড়ছে এসব এলাকার মানুষের জীবন ও জিবীকা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন নদী রক্ষায় সরকারকে এখনই কঠোর হতে হবে। অনুসন্ধানে দেখা যায়, পায়রা নদীর সঙ্গে লোহালিয়া নদীর সংযোগস্থলে কয়েক দশক আগে ২নং বাধঘাট নামক স্থানে দেয়া হয়েছে একাধিক বাঁধ। এরপরে লোহালিয়া ইউনিয়নের মধ্যে প্রবাহমান খালের শৌলা নামক স্থানেও বাঁধ দিয়ে নদীটি বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আর একই ইউনিয়নের কাশিপুর এলাকায় প্রবাহমান নদীতে বাঁধ দিয়ে সেখানে বাজার নির্মাণ করা হয়েছে। অপরদিকে নদীর সঙ্গে সংযোগ থাকা যেসব খালে বাঁধ দেয়া হয়নি, সেসব খালের বিভিন্ন স্থানে নির্মাণ করা হয়েছে একাধিক স্লুইস গেট। সেসব স্লুইস গেটের অধিকাংশই এখন অকেজো। ফলে স্লুইসের মধ্যে থাকা খালগুলো এখন কৃষি জমি অথবা ডোবায় পরিণত হয়েছে। এভাবেই পুরো দক্ষিণ অঞ্চলের অধিকাংশ নদী এখন বিলীন হওয়ার পথে। জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ব্লুগোল্ড প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালীর পৌর বিভাগের অধীনে চারটি পোল্ডারের ভিতরে ৩৫টি স্লুইস গেট রয়েছে। এরমধ্যে ৪টি স্লুইস গেট ইতোমধ্যে অকেজ অবস্থায় রয়েছে। সদর উপজেলার ৬নং জৈনকাঠী ইউনিয়নের ট্যাংগাই গ্রামের আবদুস সালাম তালুকদার বলেন, এক সময় কইয়ার খাল নদীতে মাছ ধইরা সংসার চালাইতাম। এহন খাল মইরা গ্যাছে। এই খালের পানি দিয়া জমিনে ধান লাগাইতাম। খাল মইরা (মার) যাওনে এহন চাষবাষেও সমস্যা অয়।৬নং জৈনকাঠী ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার আবদুল জলিল সিকদার বলেন, বড় খাল ভর্তি হওয়াতে সংযোগ খালগুলোও মারা গেছে। এতে এলাকার কৃষক যারা আছে তারা সময় মত পানি উঠাতেও পারে না আবার ঝড়বন্যা হলে সহজে নামাতেও পারে না। আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ কৃষক তাই সরকারের কাছে জোর দাবি জানাই দ্রুত খালগুলো খনন করার। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বাধ নির্মাণ করে শাসনের নামে রীতিমতো নদীকে শোষণ করা হচ্ছে। ফলে নদী যেমন যৌবন হারিয়েছে তেমনি এর পাশে প্রবাহমান খালগুলো এখন মরা খালে পরিণত হচ্ছে।তবে জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, অকেজো স্লুইসগেট সংস্কারসহ খাল খনন করতে ইতোমধ্যে পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।সরকারের নীতি নির্ধারণী পর্যায়ে নদী কেন্দ্রীক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি নদী রক্ষায় সুর্নিদৃষ্ট ও সময় উপযোগী আইন প্রনয়ণের কথা বলছেন বিশেষজ্ঞরা। এফএ/জেআইএম