কুষ্টিয়ায় আবাসিক হোটেলে আমেরিকান ফ্রিল্যান্স ফটো সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এ্যালিসন জয়েসকে উত্ত্যক্তের ঘটনায় কুষ্টিয়ার আলোচিত সেই ‘খেয়া রেস্তোরার’ মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশুর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে বিশুর পক্ষে আইনজীবীরা জামিন প্রার্থনা করলে কুষ্টিয়া সদর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক এস এম মেজবাউল হক উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিন নামঞ্জুর করেন। সোমবার দুপুর ২টার দিকে কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় এলাকার খেয়া রেস্তোরার সামনে থেকে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিশ্বনাথ সাহা বিশুকে আটক করে। বিকেলে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশ ৫৪ ধারায় তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠায়।বাল্যবিয়ে নিয়ে কাজ করতে এসে রাত্রিযাপনের জন্য আমেরিকান ফ্রি-ল্যান্স ফটো সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মী এ্যালিসন জয়েস গত ৬ মার্চ কুষ্টিয়া শহরের ছয় রাস্তার মোড় এলাকার খেয়া আবাসিক হোটেলে ওঠেন। গভীর রাতে হোটেল মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশু মদ্যপ অবস্থায় প্রায় আধাঘণ্টা যাবৎ তার কক্ষের দরজা খোলার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন সাংবাদিক এ্যালিসন জয়েস। এ ঘটনায় হোটেল মালিকের বিরুদ্ধে রোববার কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি করা হয়। রোববার কুষ্টিয়ার ওই দুই কর্মকর্তার কাছে বিদেশি ফটো সাংবাদিক এ্যালিসন জয়েসের পক্ষে অভিযোগটি জমা দেন সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নারীদের নিয়ে কাজ করতে কুষ্টিয়া এসেছিলেন আমেরিকান ফ্রি-ল্যান্স ফটোজার্নালিস্ট এ্যালিসন জয়েস। গত ৬ মার্চ রাতে শহরের ছয় রাস্তার মোড়ে অবস্থিত খেয়া আবাসিক হোটেলে অবস্থানকালে রাত একটার দিকে হোটেলের মালিক পক্ষের অংশীদার বিশ্বনাথ সাহা বিশু মদ্যপ অবস্থায় তার কক্ষে প্রবেশ করতে মোবাইলে ফোন দেন। এসময় অরেকটি চাবি দিয়ে গেট খোলার চেষ্টাও করা হয়। এ্যালিসন জয়েসের দাবি, ঘটনার সময় কক্ষে তিনি একা অবস্থান করছিলেন। একজন নারী হিসেবে ওই সময় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। আতঙ্কিত অবস্থায় তার বাংলাদেশি সহকর্মী কুষ্টিয়ার ছেলে সাংবাদিক আলী এহসানকে মোবাইলে ঘটনাটি জানান। আলী এহসান দ্রুত মটর সাইকেলযোগে সেখানে পৌঁছান এবং আরো কয়েকজনের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করেন। আলী এহসান রাত ৩টার দিকে এ্যালিসন জয়েসকে শহরের রোজ ভিউ হোটেলে নিয়ে যান। কিন্তু সেই হোটেল কর্তৃপক্ষ জানান কোন মহিলাকে একা রুম ভাড়া দেয়া হয় না। সে দেশি হোক আর বিদেশি হোক। ওই সাংবাদিক জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে করা অভিযোগপত্রে লিখেছেন এখানে না আসলে জানতে পারতাম না মফস্বলের নারীরা কতটা বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। স্থানীয় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের নিকট ওই দুই হোটেল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়ার অনুরোধ করেছেন এ্যালিসন জয়েস।অভিযোগ জমা দেয়ার সময় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার এস এম মেহেদী হাসান এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মুজিব উল ফেরদৌস। কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলেন, বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এদিকে অভিযুক্ত হোটেল মালিক বিশ্বনাথ সাহা বিশু বলেন, উচ্চ শব্দে গান-বাজনা হচ্ছে বলে তিনি মোবাইলে হোটেল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। কী সমস্যা হচ্ছে আমরা তার খোঁজ নিতে গিয়েছিলাম। এ্যালিসন জয়েসের পক্ষে অভিযোগ জমাদানকারী প্রযুক্তিবিদ সুফি ফারুক ইবনে আবুবকর বলেন, ঘটনাটি জানার পরে বিদেশি ভদ্রমহিলাকে বলেছিলাম পুলিশের কাছে অভিযোগ করতে। তার পক্ষে আবার ফিরে এসে অভিযোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না বলে তার লিখিত অভিযোগটি তার পক্ষে পৌঁছে দিলাম। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নিয়েছেন। সার্বিক বিষয় মাথায় রেখে আমরা জেলা প্রশাসনকে অনুরোধ করেছি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত করতে। অপরদিকে, এ ঘটনায় কুষ্টিয়া মডেল থানায় রোববার একটি জিডিই দায়ের হয়েছে। এ ব্যাপারে কুষ্টিয়া মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহাবুদ্দিন চৌধুরী জানান, এ্যালিসন জয়েস ইংরেজীতে ঘটনাটি উল্লেখ করে সাধারণ ডায়রি করার জন্য তাদেরকে ই-মেইল করলে তারা এটি আমলে নেন এবং তদন্ত শুরু করেন। জিডিতে মার্কিন নাগরিক ওই নারী সাংবাদিক অভিযোগ করেছেন, ৬ মার্চ রাত ১টার দিকে হোটেল মালিক মি. সাহা তার কক্ষের দরজা অনবরত নক করতে থাকেন। এ অবস্থায় তিনি চরম আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং দরজা না খুলে তার এক পরিচিতকে ফোন করলে কিছুক্ষণ পর সেই পরিচিতের সহযোগিতায় তিনি রক্ষা পান। আল-মামুন সাগর/এফএ/জেআইএম