দেশজুড়ে

চিয়ার আপ ও ম্যাক্সকোলার বর্ষবরণে মেতেছিল যশোরবাসী

চিয়ার আপ ও ম্যাক্সকোলার বর্ষবরণ আনন্দে মেতেছিল যশোরবাসী। মঙ্গলবার বিকেল থেকে রাত পর্যন্ত শেকড়, বিবর্তন ও সুরধুনীর নান্দনিক আয়োজনে উদযাপিত হয়েছে নববর্ষের প্রথম দিন। আর সকালে উৎসবের আনন্দ ছড়িয়ে দিয়েছিল উদীচী যশোর। এসব আয়োজনে সহযোগিতা করেছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। মঙ্গলবার সকালে উদীচীর পর বিকেলে যশোর পৌর উদ্যানে বর্ষবরণ উৎসবের আয়োজন করে শেকড়। সন্ধ্যা পর্যন্ত এ অনুষ্ঠানে ঢল নামে হাজারও মানুষের। নানা বয়সী নারী-পুরুষের মিলন মেলায় পরিণত হয় পৌর উদ্যান।‘নীরবতা ভেঙে ফেলি আপন আলোয়’- এ শ্লোগানে সাংস্কৃতিক সংগঠন শেকড়ের অনুষ্ঠানের ডালিতে ছিল ৮টি পর্ব। শুরুতেই ছিল কচিকাঁচাদের পরিবেশনায় কবিতা, নাচ আর গান। শিশুতোষ পর্ব শেষে পরিবেশিত হয় আবহমান গ্রাম-বাংলার হৃদয়স্পর্শী গান। বাঙালির নিজস্ব ‘সঙ্গীত সম্পদ’- লালন সাঁই, হাছন রাজা, রবীন্দ্র-নজরুল আর আব্দুল আলীমের গান দিয়ে সাজানো হয় এ পর্ব। এরপর গীতিনাট্য পর্বে- বেহুলা, বেদের মেয়ে জোছনা, কাঞ্চনমালা ও মদন কুমার গীতিনাট্য পরিবেশিত হয়। এছাড়া শেকড়ের শিল্পীদের পরিবেশনায় নৃত্য, গাজী কালু চম্পাবতীর পট গান, অভিমন্যু বধ, নাটক একধামা আলু উপস্থাপন করে শেকড়ের শিল্পীরা। শেকড়ের আয়োজনে বর্ষবরণের এ অনুষ্ঠানে সহযোগিতায় ছিল চিয়ার আপ। একই সঙ্গে বর্ষবরণ আনন্দে নবকিশলয় স্কুল মাঠে উৎসব আয়োজন করে বিবর্তন ও সুরধুনী। বিকেল ৫ টা ১ মিনিটে শুরু হয় বর্ষবরণের দ্বিতীয় পর্বের অনুষ্ঠান। এ সময় বড়দের পরিবেশনায় পাঁচ কবির গানসহ বাউল সঙ্গীত পরিবেশিত হয়। লালন সাঁই, হাছন রাজা, শাহ আব্দুল করিমের বাউল গানের ডালি নিয়ে হাজির হন সঙ্গীত শিল্পীরা।সংগঠন দুটির বৈকালীন আয়োজনে আরও ছিল বড়দের পরিবেশনায় আবৃত্তি ও নাটক। সমরেশ মজুমদার রচিত উপন্যাস ‘হরিণবাড়ি’ অবলম্বনে নির্মিত নাটক ‘স্বর্ণ সন্ধান’ মঞ্চায়ন করেন বিবর্তনের শিল্পীরা। এর আগে সকালে নতুন সূর্যোদয়ের পর ভোর ৬টায় কচিকাঁচাদের সমবেত কণ্ঠে নববর্ষের আবহ সঙ্গীত ‘এসো হে বৈশাখ...এসো এসো’ এর মাধ্যমে ১৪২২ বঙ্গাব্দ বরণ করে এ দুই সংগঠন। বিবর্তন ও সুরধুনীর এ আয়োজনে সহযোগিতায় ছিল ম্যাক্সকোলা।  এসএস/এআরএস/এমএস