দেশজুড়ে

বর্ষা মৌসুমের আগেই ভবদহ অঞ্চলে নদী ও খাল খনন

পানি সম্পদ মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেছেন, জলাবদ্ধতা সৃষ্টির পরে নয়, বর্ষা মৌসুমের আগেই ভবদহ অঞ্চলে নদী-খাল খনন ও সংস্কার করা হবে। এজন্য ইতোমধ্যে দুই থেকে আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহেই এ খনন কাজ শুরু হবে। বৃহস্পতিবার দুপুরে যশোরে অনুষ্ঠিত ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানে পরিকল্পনা-সমীক্ষার ওপর এক জাতীয় কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।ভবদহ অঞ্চলে জলবদ্ধতা সমস্যা নিরসনে টিআরএম’র বিকল্প নেই। কিন্তু স্থানীয় সমস্যার কারণে ইতোপূর্বে বিল কপালিয়ায় টিআরএম বাস্তবায়ন করা যায়নি। পুনরায় এটি বাস্তবায়ন করতে পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী। যশোর কালেক্টরেট সভাকক্ষে পানি উন্নয়ন বোর্ড ও আইডব্লিউএম এর যৌথ উদ্যোগে এ কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক ড. হুমায়ুন কবীর। বিশেষ অতিথি ছিলেন, পানি সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নজরুল ইসলাম বীরপ্রতীক, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ইসমাত আরা সাদেক, যশোর-৫ আসনের সংসদ সদস্য স্বপন ভট্টাচার্য ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. জাফর আহমেদ খান। স্বাগত বক্তব্য দেন, পাউবো’র অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) আবদুর রহমান আকন্দ।  কর্মশালায় ভবদহ অঞ্চলের জলবদ্ধতার দীর্ঘমেয়াদী সমাধানকল্পে কারিগরি ও পরিবেশবান্ধব পরিকল্পনা এবং সম্ভাব্যতা সমীক্ষার ফলাফল উপস্থাপন করেন প্রকল্পের টিম লিডার জহিরুল হক খান। এই সমীক্ষায় জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৩টি কার্যক্রমের সুপারিশ করা হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে, বিল কপালিয়ায় টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট-জোয়ারধার) প্রকল্প, ভবদহ রেগুলেটর থেকে ঢাকুরিয়া পর্যন্ত মুক্তেশ্বরী নদীর দুই পাশে সাড়ে ২৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ, টেকা-হরি নদীর ড্রেজিং, আপারভদ্রা, হরিহর, নুরনিয়াসহ সংশ্লিষ্ট খালের পনুঃখনন, আমডাঙ্গা-ঝিকরা-মশিহাটি খাল পুনঃখনন করে ভৈরব-টেকা-হরি নদীর সংযোগ স্থাপন, শ্রী নদীর সকল ক্রস বাঁধ অপসারণ, কেশবপুরের বড়পিট খাল উন্মুক্তকরণ, প্রয়োজনীয় সংখ্যক কালভার্ট ও হাইড্রোলিক স্ট্রাকচার নির্মাণ ও ভবদহ রেগুলেটরের ফ্ল্যাপগেট অপসারণের মাধ্যমে অবাধ পানি প্রবাহ নিশ্চিত করা ইত্যাদি।  মিলন রহমান/এফএ/পিআর