দেশজুড়ে

দিনাজপুরে একদিনে ৩ শিশু ধর্ষণের শিকার

দিনাজপুরের পৃথক স্থানে একদিনে ধর্ষণের শিকার হয়ে তিন স্কুলছাত্রী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এসব ঘটনায় দুইটি মামলা হয়েছে। তবে আরেকটি ঘটনা এখনো জানে না বলে দাবি পুলিশের। নির্যাতিত তিন শিশু ৯ থেকে ১২ বছর বয়সী। সর্বশেষ ঘটনাটি ঘটেছে নবাবগঞ্জ উপজেলার ভেবতগাড়ী আশ্রয়ন কেন্দ্র। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টায় ভেবতগাড়ী আশ্রয়ন কেন্দ্রে এক স্কুলছাত্রী খেলা করছিল। এ সময় একই এলাকার আনোয়ার হোসেনের ছেলে বাবুল (২০) একা পেয়ে ওই ছাত্রীকে ধর্ষণ করে। শিশুটির চিৎকারে গ্রামের মানুষ ছুটে আসলে বাবুল পালিয়ে যান। পরে ওই শিশুকে রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। গতকাল বুধবার তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। শিশুটি বর্তমানে ডা. জাহানারা মুন্নির তত্ত্বাবধানে রয়েছে। নবাবগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইসমাইল হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে শিশুর বাবা লাল মিয়া মামলা করেছেন। আসামি পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।এদিকে, বীরগঞ্জ উপজেলায় একই দিনে মঙ্গলবার বিকেলে উপজেলার পাল্টাপুর ইউনিয়নের মধুবনপুর গ্রামের স্কুলছাত্রী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হয়। এ সময় ওই শিশুকে একই গ্রামের মৃত ইয়াজ উদ্দিনের ছেলে মো. ইছাহাক আলী ইছা ধর্ষণ করে পালিয়ে যান। পরিবারের লোকজন রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে রাতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে ভর্তি করা হয়। বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আককাছ আহম্মদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ব্যাপারে শিশুটির বাবা বাদী হয়ে বুধবার নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। পুলিশ সকালে অভিযান চালিয়ে ধর্ষককে গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠিয়েছে।এছাড়া অপর ঘটনাটি ঘটেছে গত মঙ্গলবার বীরগঞ্জের পলাশ বাড়ি ইউনিয়নে। ওই ইউনিয়নের ভান্ডারি গ্রামের স্কুলছাত্রী হাটে কাপড় কিনতে যাচ্ছিল। এ সময় একই এলাকার নুরু মিয়ার ছেলে সুরুজ (৩০) তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। মঙ্গলবার তাকে দিনাজপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গাইনি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে। এ ব্যাপারে বীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু আককাছ আহম্মদের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এ ঘটনা সম্পর্কে আমি অবগত নই। কেউ এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ করেনি।  এমদাদুল হক মিলন/এএম/জেআইএম