চাঁদপুর জেলায় এবার আলুর বাম্পার ফলন হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও অধিক চাষ হয়েছে আলু। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে জেলার হাজার হাজার হেক্টর জমির আলু পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।
এদিকে পানিতে তলিয়ে যাওয়া এসব আলু সংরক্ষণ না করে বিক্রি বা খাওয়ার জন্য পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর থেকে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হেক্টরের পর হেক্টর জমির আলুতে পঁচন ধরেছে। অনেক কৃষক পঁচা আলু জমিতেই ফেলে রেখেছেন। আবার অনেকে পানির নিচ থেকে আলু তোলার প্রাণপণ যুদ্ধে নেমেছেন। অনেককে সন্ধ্যার পরও আলু তুলে করে বাড়িতে আনতে দেখা গেছে। উত্তোলিত এসব আলু কাঁদাযুক্ত থাকায় পাম্প মেশিন দিয়ে ধোয়া হচ্ছে। আবার টেবিল ফ্যানের মাধ্যমে শুকাতেও দেখা যাচ্ছে। এ যেন এক অন্যরকম যুদ্ধ।
কৃষক জামাল গাজী, খোরশেদ আলম, জমির মিয়া, কৃষাণী সালেহা বেগমসহ শত শত কৃষক-কৃষাণী কান্নাজড়িত কণ্ঠে জাগো নিউজকে জানান, ব্যাংক থেকে লাখ লাখ টাকার ঋণ নিয়ে এবার আলু চাষ করেছি। কিন্তু বৃষ্টিতে সব শেষ।জমি থেকে আলু তোলার শ্রমিকও মিলছে না। এখন নিজেরাই আলু উত্তোলনে নেমেছি। মান সন্মানের কথা ভুলে আগে বাঁচার কথা চিন্তা করছি।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা সরকারের কাছে সহযোগিতার দাবি জানিয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর চাঁদপুরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আলী আহম্মদ জাগো নিউজকে জানান, এবার চাঁদপুরের ৮ উপজেলায় আলুর আবাদ হয়েছে ১৩ হাজার ১শ ৯০ হেক্টর জমিতে। আর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১২ হাজার ১শ ৮৮। অর্থাৎ লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি আলু চাষ হয়েছে।
তবে এই বিপর্যয়ের কারণে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত না হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও বেশিরভাগ জমির আলু ইতোমধ্যে তোলা হয়ে গেছে। কিছু এলাকার আলু এখনো তোলা হয়নি। কিন্তু হঠাৎ বৃষ্টিতে আলু জমিতে পানি আটকে গেছে। এসব এলাকার আলু দ্রুত উত্তোলনের পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করতে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা।
ইকরাম চৌধুরী/এফএ/জেআইএম