সারাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরায় সুপেয় পানি সংকট সব থেকে বেশি। এটা সরকারিভাবেই স্বীকৃত। জেলার মধ্যে শ্যামনগর ও আশাশুনি উপজেলায় এই সংকট আরও ভয়াবহ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর, বল্লী, ঝাউডাংগা, ব্রক্ষ্মরাজপুর, লাবসা এসব এলাকায় গভীর নলকূপ বসালেও পানি ওঠে না। এছাড়া সদরসহ সব ইউনিয়নে রয়েছে সুপেয় পানির সংকট।
এরপর পর্যায়ক্রমে সব উপজেলাতেই সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। জেলার শতাধিক ইউনিয়নে ডিপটিউবয়েল বসানোই যায় না। আর বসালেও পানি পাওয়া যায় না।
জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা জানান জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতরের সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান।
তিনি বলেন, সাতক্ষীরা সদরের ধুলিহর, বল্লী, ঝাউডাংগা, ব্রহ্মরাজপুর, লাবসা এসব এলাকায় ডিপটিউবয়েল বাসালেও পানি ওঠে না। তাছাড়া সদরসহ সকল ইউনিয়নগুলোতেও সুপেয় পানির সংকট।
এছাড়া আশাশুনি ও শ্যামনগরে সুপেয় পানির ভয়াবহতা আরও বেশি। এক কথায় সুপেয় পানিই নেই। যেটুকু রয়েছে তা নামে মাত্র।
অন্যদিকে, কলারোয়া উপজেলার মানুষ পান করেন আর্সেনিকযুক্ত পানি। তালা উপজেলাতেও রয়েছে সুপেয় পানির সংকট। কালিগঞ্জ উপজেলাতেও একই অবস্থা। দেবহাটাতেও কিছুটা সংকট রয়েছে।
পানি সংকট নিরসনে সরকারের পদক্ষেপ কী জাগো নিউজ প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি অবগত আছেন। তাদের বিভিন্ন সময় পানি সংকটের বিষয়ে প্রতিবেদন দেয়া হয়েছে।
সরকারের পদক্ষেপ গ্রহণ হিসেবে তিনি উল্লেখ করেন, পরীক্ষামূলকভাবে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে লবণপানি মুক্ত প্ল্যান্ট স্থাপনের প্রক্রিয়া চলমান। যা কালিগঞ্জ উপজেলায় একটি, শ্যামনগর উপজেলায় একটি ও আশাশুনি উপজেলায় দুইটি স্থাপন করা হবে। এই প্রক্রিয়া চলমান। টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। যার প্রতি লিটার পানি বিক্রয় হবে ৫০ পয়সা করে। এখান থেকে সুপেয় পানি পাবে এলাকাবাসী। তাছাড়া পানি সংকট নিরসনে সুপেয় পানির জন আশাশুনিতে ১৪টি পুকুর, শ্যামনগরে ৭টি পুকুর খনন করা হয়েছে।
আক্ষেপ করে সদর উপজেলার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. মনিরুজ্জামান জাগো নিউজকে বলেন, সংকট নিরসনে যেভাবে ভূমিকা রাখা দরকার সেভাবে কেউ রাখে না। বর্তমানে পানির লেয়ার ৩১-৩২ ফুট নিচে নেমে গেছে। আগামী এপ্রিল-মে মাসে যা আরও নিচে নেমে গিয়ে দাঁড়াবে ৪০-৪২ ফুটে।
তিনি বলেন, আপনারা লিখুন বিষয়টি তবেই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আসবে। সবাই জানতে পারবে। এটা অনেকই জানে না। সাতক্ষীরায় সুপেয় পানির কী ভয়াবহ সঙ্কট।
কপোতাক্ষ, বেতনা, ইছামতি, যমুনা, কালিন্দী, খোলপেটুয়া ও মরিচ্চাপ এই সাত নদীতে বেষ্টিত সাতক্ষীরা জেলার মানুষের পানি সংকট দূরীকরণের দাবি সর্বসাধারণের।
শহরের আমতলা মোড় এলাকার আরিফুল ইসলাম সবুজ জানান, শহরের মধ্যেই পানির সংকট। পৌরসভা থেকে যে পানি সরবরাহ করা হয় তাতেও থাকে ময়লা-আবর্জনা। টিউবয়েলের পানিতে আর্সেনিক। বাধ্য হয়েই বিভিন্ন কোম্পানির পানি কিনে খেতে হয়। তিনিও এই পানি সংকট নিরসনের দাবি জানান। আকরামুল ইসলাম/এএম/বিএ