বিশেষ প্রতিবেদন

বর্জ্যে আক্রান্ত হ্রদের আর্তনাদ

মারাত্মক দূষণের শিকার রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। যা খাবার পানি হিসেবে মোটেও নিরাপদ নয়। পাহাড়ের মানুষের মধ্যে বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

দিন দিন বিশুদ্ধ পানির চরম সংকট আকার ধারণ করেছে। গ্রীষ্মের তাপদাহের গরমে এমনিতেই কাপ্তাই লেকের পানির স্তর নেমে যাওয়ায় নলকূপগুলোতেও পানি পাওয়া যাচ্ছে না।

নষ্ট নলকূপগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে। তা ছাড়া অনেক আগেই শুকিয়ে গেছে ছড়া ও ঝর্নাগুলো। তাই পাহাড়ে তীব্র হয়ে উঠেছে পানির চাহিদা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, নানাভাবে দূষণের শিকার হচ্ছে রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানি। বেপরোয়া দখল, মলমূত্র, ময়লা, আবর্জনা, বর্জ্য নিক্ষেপসহ প্রতিনিয়ত যত্রতত্র ব্যবহার করা হচ্ছে এই লেককে। ফলে লেকের পানি পান ও ব্যবহার অনিরাপদ বলে জানান, গবেষক ও প্রশাসনিক কর্মকর্তারা।

তারা বলেন, মূলত দখলের কবলে দূষণের শিকার রাঙামাটির কাপ্তাই লেকের পানি। দিনের পর দিন শহরসহ জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেদখল হয়ে যাচ্ছে লেকের পাড় ও জলমহাল। দখলে রাতারাতি গড়ে উঠছে কাঁচা, পাকা বাড়িঘরসহ প্রচুর অবৈধ স্থাপনা।

এতে আশেপাশের এলাকায় গড়ে উঠছে বস্তি। এসব বস্তিতে বসবাসকারী লোকজনের ময়লা, আবর্জনা, বর্জ্য নিক্ষেপের ফলে দূষণের শিকার হচ্ছে কাপ্তাই লেকের পানি। এতে জনস্বাস্থ্য নিয়ে বাড়ছে ঝুঁকি।

উল্লেখ্য, বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষে ১৯৬০ সালে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে খরস্রোতা কর্ণফুলি নদীর ওপর দিয়ে নির্মিত হয় কাপ্তাই বাঁধ। ফলে সৃষ্টি হয় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার সর্ববৃহৎ কৃত্রিম জলরাশি কাপ্তাই লেক। এর আয়তন প্রায় সাড়ে ৭০০ বর্গকিলোমিটার।

এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক মো. মানজারুল মান্নান বলেন, রাঙামাটি শহরে প্রচুর অবৈধ স্থাপনা গড়ে উঠছে। এছাড়া লেকের পাড়ে ও ঘেঁষে প্রচুর জনবসতি। এসব বসতি ও স্থাপনায় বসবাসকারী লোকজন প্রতিনিয়ত প্রচুর ময়লা, আবর্জনা ও বর্জ্য ত্যাগ করছেন লেকে। পাশাপাশি প্রতিনিয়িত বর্জ্য, আবর্জনা নিক্ষেপ করছেন নদীপথে যানবাহনে যাতায়াতকারী লোকজন। এসব কারণে লেকের পানি ক্রমাগত দুষণের শিকার হচ্ছে। দূষণ থেকে রক্ষার জন্য স্থানীয় লোকজনসহ সবাইকে সচেতন হয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলে মৎস্য চাষ উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের উপ-পরিচালক মো. আবদুর রহমান বলেন, গবেষণায় দেয়া গেছে কাপ্তাই হ্রদের পানি ব্যবহার অনিরাপদ। ফোটানো বা পরিশোধন ছাড়া এই হ্রদের পানি পান করা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

তিনি বলেন, বিষাক্ত দ্রব্য, বৈর্জ্য ও ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপসহ নানা কারণে দূষণের শিকার হচ্ছে কাপ্তাই লেকের পানি। এছাড়া হ্রদকে ব্যবহার করা হচ্ছে যত্রতত্রভাবে। ফলে লেকের পানি ব্যবহারে অনিরাপদের পাশাপাশি মৎস্য বিচরণ ক্ষেত্র ও আবাসস্থল বিনষ্ট হয়ে যাচ্ছে।

সুশীল প্রসাদ চাকমা/এএম/বিএ