‘মেঘ ডাকলেই চমকে উঠি, আঁতকে উঠি। এই বুঝি কোনো দুর্যোগ আবারো সবকিছু কেড়ে নেবে। আট বছর আগে আইলার সময় এমনটাই ঘটেছিল। কোনো কিছু বুঝে ওঠার আগেই বাঁধ ভেঙে তীব্র বেগে পানি ঢুকে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই স্বাভাবিক জীবনের চিত্র বদলে দেয়। ধ্বংসস্তূপে পরিণত করে দেয় এলাকা। পরিবার পরিজন নিয়ে এখানে সব সময় আতঙ্কের মধ্যেই জীবন-যাপন করতে হয় আমাদের। ভয়াবহ সেই সব দিনের স্মৃতি আর মনে করতে চাই না।’
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার আইলা বিধ্বস্ত এলাকা গাবুরার শেখ ইবাদুল ইসলাম জাগো নিউজের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন।
তিনি আরও বলেন, এখানকার মানুষ আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেনি। খাবার পানির সংকট, রাস্তা-ঘাটের দূরাবস্থা, টিউবয়েলে পানি উঠলেও তা লবণাক্ত। খাওয়া যায় না।
আইলা বিধ্বস্ত জেলার আশাশুনি উপজেলার শ্রীউলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবু হেনা শাকিল জাগো নিউজকে জানান, বিভিন্ন সময় খোলপেটুয়া নদীর তীব্র স্রোতে বাঁধ ভেঙে মানুষের দুর্ভোগের শেষ থাকে না। আবহাওয়া খারাপ থাকায় অতিবৃষ্টির কারণে এসব ভেঙে যায়। পানি উন্নয়ন বোর্ড বিভিন্ন সময় দায়সারা কিছু কাজ করলেও স্থায়ী কোনো পদক্ষেপ নেয় না কখনো। বর্তমানে প্রতাপনগর ইউনিয়নের বেশ কিছু স্থানে নদীর বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ রয়েছে। আবহাওয়া খারাপ হলেই যে কোনো মুহূর্তে আবারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হবে।
শ্যামনগরের পদ্মপুকুর ইউনিয়নের পাখিমারা গ্রামের জাকির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, কামালকাটি গ্রামের হাফ কিলোমিটার বাঁধে ভাঙন, পাতাখালি গ্রামের অমল চেয়ারম্যানের বাড়ির পাশে বাঁধে ভাঙন, চণ্ডিপুর এলাকায় ভাঙন। এসব ভাঙন এলাকা যদি এখনই মেরামত করা না হয় তবে যে কোনো মুহূর্তে বাঁধ ভেঙে আবারো দুর্ভোগে পড়তে হবে আমাদের। ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হবে।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা। সম্ভাবনাময় এ জেলায় বিভিন্ন সময় প্রাকৃতিক দুর্যোগ বদলে দিয়েছে মানুষের জীবনের চিত্র। এছাড়াও সাতটি নদী বেষ্টিত এ জেলায় বিভিন্ন সময় বাঁধ ভেঙে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে হাজার হাজার মানুষ।
যে কোনো ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রশাসন তৎপর রয়েছে উল্লেখ করে জেলা প্রশাসক আবুল কাশেম মো. মহিউদ্দীন জাগো নিউজকে বলেন, উপকূলীয় জেলার দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে এক কোটি টাকা বাজেট চেয়ে পাঠানো হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর বর্তমানে অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। তাছাড়া যে সকল এলাকা দুর্যোগ প্রবণ সেসব এলাকার বাঁধ সংস্কারের জন্য কর্তপক্ষকে বলা হয়েছে।
আরএআর/পিআর