দেশজুড়ে

সরানো যাচ্ছে না মোনায়েম খানের স্মৃতিফলক

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অনুমতি না থাকায় নাটোরের ইতিহাসখ্যাত উত্তরা গণভবন থেকে সরানো যাচ্ছে না কুখ্যাত আবদুল মোনায়েম খানের স্মৃতিফলকটি। এমনকি সরকারি প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতাবিরোধীদের নাম অপসারণের জন্য হাইকোর্টের নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও এখনও অপসারণ করা হয়নি স্মৃতিফলকটি।

স্বাধীনতার ৪৬ বছর পরও ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবনে এখনও বহাল তবিয়তে সংরক্ষিত রয়েছে স্মৃতিফলকটি। বঙ্গবন্ধুর নামের পাশে এমন একজন কুখ্যাত ব্যক্তির নাম থাকাটা বঙ্গবন্ধুকে অপমান করার শামিল বলে মনে করে সচেতন মহল। তবে স্বাধীনতার এতো বছর পরও তার স্মৃতিফলকটি অপসারণ না করায় ক্ষুব্ধ নাটোরবাসী। অনতিবিলম্বে কুখ্যাত আবদুল মোনায়েম খানের স্মৃতিফলকটি অপসারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।

সূত্র জানায়, নাটোরের ঐতিহাসিক উত্তরা গণভবন, রাজধানীর বাইরে প্রধানমন্ত্রীর একমাত্র বাসভবন এটি। ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর দিঘাপতিয়ার রাজা দেশত্যাগ করে ভারতে চলে যান। ১৯৫০ সালে জমিদারি ও প্রজাস্বত্ব আইন পাশ হওয়ার পরে দিঘাপতিয়ার রাজ প্রাসাদটির রক্ষণাবেক্ষনে সমস্যা দেখা দেয়। এছাড়া ১৯৬৬ সালের ৬ দফা আন্দোলন শুরু হলে দেশের উত্তরাঞ্চলকে হাতের মুঠোয় রাখতে ১৯৬৭ সালের ২৪ জুলাই দেশের দিঘাপতিয়া রাজবাড়ীকে গভর্ণর হাইজ হিসেবে ঘোষণা ও উদ্বোধন করেন তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের গভর্ণর কুখ্যাত মোনয়েম খান।

স্থাপন করা হয় মোনায়েম খানের স্মৃতিবিজরিত ফলকটি। এখানে বসেই দেশের বিরুদ্ধে চক্রান্ত করতে থাকে পাকিস্তানি শাসক গোষ্ঠী। স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই গভর্নর হাউসকে উত্তরা গণভবন নামে উদ্বোধন করেন। সে সময় বঙ্গবন্ধুর নামাঙ্কিত আর একটি স্মৃতিফলক স্থাপন করা হয়।

সম্প্রতি হাইকোর্ট বাংলাদেশের সকল প্রতিষ্ঠান থেকে স্বাধীনতা বিরোধীদের নাম অপসারণের নির্দেশ দেয়। তবে বঙ্গবন্ধুর নামের পাশে কুখ্যাত মোনয়েম খানের স্মৃতিফলকটি থাকায় বঙ্গবন্ধুর রহমানের নামকে অসম্মান করার সামিল বলে মনে করছেন সচেতন মহল। কিন্তু সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে স্বাধীনতা বিরোধী ব্যক্তির স্মৃতিফলক অপসারণে হাইকোর্টের নির্দেশ থাকলেও শুধুমাত্র প্রধানমন্ত্রীর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি না থাকায় উত্তরা গণভবন থেকে কুখ্যাত মোনায়েম খানের স্মৃতিফলকটি অপসারণ করা যাচ্ছে না বলে জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়।

এ বিষয়ে নাটোরের জেলা প্রশাসক শাহিনা খাতুন জানান, মোনয়েম খানের নাম অপসারণের বিষয়ে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করলেও এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় থেকে মোনয়েম খানের স্মৃতি ফলকটি অপসারণের সম্মতি  পাননি। তবে সম্মতি পাওয়া গেলেই এটি অপসারণ করা হবে।

রেজাউল করিম রেজা/এআরএ/জেআইএম