কুড়িগ্রামের চিলামারী উপজেলায় গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের অধীনে সেতু তৈরিতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। লিখিত অভিযোগ না থাকায় প্রশাসনও নীরব ভূমিকা পালন করছে। এসব সেতুর স্থায়ীত্ব নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন স্থানীয়রা।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চিলামারী উপজেলায় ২০১৬-২০১৭ অর্থ বছরের গ্রামীণ রাস্তার উন্নয়নের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা শাখার অধীনে ৩ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয়ে ১১টি সেতু নির্মাণের জন্য বরাদ্দ দেয়া হয়। এসব সেতুর কাজ শুরু হয় ফেব্রুয়ারিতে আর শেষ হবে এপ্রিলে। উপজেলার ৫টি ইউনিয়নে ৩৪ ও ৪০ এবং ৬০ফিট দৈর্ঘ্য ও ১৪ ফিট প্রস্থের সেতু নির্মাণ করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করেই দেদারছে তৈরি হচ্ছে এসব সেতু। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের নির্দেশেনা মোতাবেক এই সেতুর কাজ শুরুর আগে ৪-৩ ফিট মাপের সাইন বোর্ডে কাজের বিবরণী তুলে ধরার কথা থাকলেও তা মানা হয়নি। কাজ চলাকালিন সময় একজন দক্ষ প্রতিনিধিকে বইসহ উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। কিন্তু নির্মাণাধীন স্থানে কোনো প্রতিনিধি এমনকি সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারেরও দেখা মেলে না।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার রাণীগঞ্জ ইউপির চিকাটারী গ্রামে ৫৪ লাখ ৪ হাজার ৬০৫ টাকা ব্যয়ে সেতুর কাজ পায় মেসার্স ফারিয়া কনস্ট্রাকশন, রমনা ইউপিতে উত্তর পাড়ায় ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৩ টাকা ব্যয়ে বালবুল কনস্ট্রাকশন, পাত্রখাতা ব্যাপারি পাড়ায় ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে মেসার্স বসুন্ধরা ও সোহরাব আর্মি বাড়ির পাশে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার মনিরুজ্জামান মনি, চিলমারী সদর ইউপিতে বিশাল আশ্রয় কেন্দ্রের ক্যানেলে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নবীদুল ইসলাম, কড়াই বরিশালের আমতলা ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে মেসার্স আদিত্য ট্রেডার্স, থানাহাট ইউপিতে মাটিকাটা মোড় থেকে ২৬ লাখ ৫৪ হাজার ৫৪৪ টাকা ব্যয়ে মেসার্স রোকসানা এন্টারপ্রাইজ, পুটিমারীর হেমন্ত বাড়ির পাশে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে মেসার্স ওহী এন্টারপ্রাইজ, রাজার ঘাটে দৌলা মাস্টারের বাড়ির পাশে ৩০লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার ফিরোজ মিয়া, নয়ারহাট ইউপিতে উত্তর ফেচকা আজিজার বাড়ি সংলগ্ন ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে ঠিকাদার নুরুল আলম রঞ্জু, বড়লাক স্কুলের পাশে ৩০ লাখ ৯০ হাজার ২০ টাকা ব্যয়ে মেসার্স জোদ্দার কনস্ট্রাকশন এসব সেতু নির্মাণ করছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শ্রমিকরা জানান, সেতু নিমার্ণে মিকচার মেশিন ও ভাইব্রেটার ব্যবহার করা হয় নাই। আমরাই হাতে মিকচার করে ঢালাই দিয়েছি। ঠিকাদারদের নির্দেশনা মতোই সেতু তৈরি করছি। শিডিউলে কী দেয়া আছে তা আমাদের জানা নেই। ঠিকাদার যেভাবে কাজ করতে বলেছে তেমন ভাবে কাজ করা হচ্ছে।
পাত্রখাতার বাসিন্দা জব্বার মিয়া ও রমজান আলী বলেন, বাহে হামরাতো এগুলা কাজের কিছু বুঝি না তাই ভাল কাজ হচ্ছে কিনা তা কবার পাইনা। তবে মিস্ত্রিরা হাতে মিকচার করে ঢালাই দিছে।
নয়ারহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু হানিফা জানান, সেতু নির্মাণ কাজ দেখতে গিয়েছিলাম। শতভাগ কাজ নিয়ে সংশয় রয়েছে।
এ বিষয়ে রাণীগঞ্জ ইউপি চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, সেতুর কাজ ভালই হচ্ছে। ভুলত্রুটি ধরার মতো জ্ঞান নেই।তাই তেমন করে বলতে পারছি না ত্রুটিপূর্ণ কাজ হচ্ছে কিনা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মির্জা মুরাদ হাসান বেগ বলেন, লিখিত কোনো অভিযোগ না আসায় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। সেতু তৈরিতে গুণগত মান নিশ্চিত করতে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
নাজমুল হোসেন/এফএ/জেআইএম