দেশজুড়ে

শ্রাবণীকে আর সহযোগিতা করতে হবে না!

মৃত্যুর কাছে হার মেনে মেধাবী ছাত্রী শারমিন সুলতানা শ্রাবণী অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলো। সোমবার বিকেলে জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিছানা থেকে সে চিরনিদ্রায় গেছে।বিষয়টি নিশ্চিত করে শ্রাবণীর চাচা বিএম রুহুল কুদ্দুস শাকিল জানিয়েছেন, তারা মৃতদেহ নিয়ে ঢাকা থেকে নিজ বাড়ি যশোরের শার্শা উপজেলার তেবাড়িয়ায় রওনা দিয়েছেন।শার্শা উপজেলার সাড়াতলা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির ছাত্রী শ্রাবণী ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিলো। মাস দেড়েক আগে বিদ্যালয় থেকে বাড়ি ফিরে হঠাৎ মাথা ঘুরে পড়ে যায় তার। তখন স্থানীয় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে যশোর কুইন্স হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। সেখানে শ্রাবণীর বেশ কয়েকটি পরীক্ষা করানো হলে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার। নিয়ে আসা হয় ঢাকার জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউটে। বর্তমানে ইনস্টিটিউটের হেমাটোলোজি বিভাগের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. মাহাবুবুর রহমানের তত্ত্বাবধায়নে ৩ নম্বর ইউনিটের ১২ বেডে চিকিৎসা চলছিলো। বাড়িতে থাকা সহায় সম্বল অধিকাংশ বিক্রি করে সদা হাস্যোজ্জ্বল শ্রাবণীর চিকিৎসার খরচ যোগাড় চলছিলো। আর বিত্তবান হৃদয়বানদের সহযোগিতার জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে আবেদন করা হয়েছিলো। ২০ এপ্রিল সংবাদ প্রকাশ করে অনলাইন নিউজপোর্টাল জাগোনিউজ। কিন্তু সাড়া পাওয়ার আগেই সবাইকে কাঁদিয়ে ওপারে চলে গেলো শ্রাবণী।এদিকে মেয়ের মৃত্যুর খবরে পিতা ইদ্রিস আলী ও মা শাহিনুরের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে পরিবেশ। এলাকায় নেমে এসেছে শোকের ছায়া। স্বজনদের স্বান্তনা দিতে শ্রাবণীর বাড়িতে ভিড় করছে তার সহপাঠী ও শিক্ষকরা।উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরীক্ষায় গোল্ডেন প্লাস পেলে শ্রাবণী তার পরিবারের সকলের নয়নের মণি হয়ে যায়। সংসারের আর্থিক অনাটনকে অগ্রাহ্য করে লেখাপড়ার খরচ জুগিয়ে যান তারা। কিন্তু মেয়েকে নিয়ে এই দম্পতির সোনালী স্বপ্ন চিরকালের জন্য থেমে গেছে।# ‘স্বপ্নের মৃত্যুর’ অপেক্ষায় শ্রাবণীএমএএস/আরআই