দেশজুড়ে

মাধপুর যুদ্ধ দিবস আজ

৭ই মার্চ বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণের পর ঈশ্বরদীতে স্থানীয় পর্যায়ে তরুণ-যুবকদের ট্রেনিং নেয়া শুরু হয়। বাড়ির একনলা-দোনালা বন্দুক, লাঠিসোটা নিয়ে ঈশ্বরদীস্থ ইক্ষু গবেষণা ইনস্টিটিউট, এসএম স্কুল মাঠে মুক্তিযুদ্ধ করার জন্য ট্রেনিং চলে।

এরই মধ্যে ২৯ শে মার্চ পাকবাহিনীর একটি সাজোয়া বহর পাবনা থেকে বিতাড়িত হয়ে মাধপুর কাঁচা রাস্তা ধরে ঈশ্বরদী হয়ে রাজশাহীর দিকে যাওয়ার সময় একদল মুক্তিযোদ্ধা বটতলার কাছে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় গ্রামবাসী যার কাছে যা ছিল তাই নিয়ে সেখানে জড়ো হয়।

বাধার সম্মুখীন হয়ে পাকবাহিনী গাড়ি বহর থেকে বৃষ্টির মত গুলি ছুঁড়তে থাকে। ওইদিন মূলত কোনো কমান্ড ও নেতৃত্ব ছাড়াই শুধুমাত্র দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে প্রায় খালিহাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল তৎকালীন ঈশ্বরদী কলেজের ছাত্রলীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান রাজুসহ অনেকে।

এ সময় পাকসেনাদের গুলিতে তিনিসহ আব্দুর রাজ্জাক, ওহিদুর রহমান, আব্দুল গফুর, নুরুল ইসলাম, আলী আহম্মদ, নবাব আলীসহ ১৭ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ৫০ জন গ্রামবাসী শহীদ হন। এই প্রতিরোধে পাকসেনারা বিভ্রান্ত হয়ে দাশুড়িয়া তেতুলতলার দিকে চলে যায়। সেখানেও পুলিশ, আনসার ও মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের সম্মুখীন হয় পাকসেনারা।

প্রতিবছর ২৯ শে মার্চ মাধপুর যুদ্ধে শহীদদের স্মরণে ঐতিহাসিক বটতলায় দিনব্যাপী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। পাবনা সদর ও ঈশ্বরদী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের যৌথ উদ্যোগে এই আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা অংশগ্রহণ করেন।

আলাউদ্দিন আহমেদ/এফএ/পিআর