দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে স্ট্রবেরি চাষ বাড়ছে

গত কয়েক বছর ধরে সিরাজগঞ্জে স্ট্রবেরি চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে স্ট্রবেরি চাষ করে ভাগ্য বদলে গেছে সিরাজগঞ্জের কৃষকদের। ভালো লাভ পাওয়ায় এখন বাণিজ্যিকভাবে স্ট্রবেরি চাষ শুরু করছেন কৃষকরা।

আপাতত সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা, রায়গঞ্জ, উল্লাপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় স্ট্রবেরি চাষ শুরু করছেন কৃষকরা। স্ট্রবেরি একটি উচ্চমূল্যের ফসল। এর চারা রোপণের এক মাসের মধ্যেই গাছে ফুল আসতে শুরু করে এবং মার্চ মাসের মধ্যে ফল পাওয়া যায়।

ব্যাংক ঋণ অথবা সরকারিভাবে কোনো আর্থিক সহায়তা পেলে স্ট্রবেরি চাষে প্রসারতা আরও দ্বিগুণ হবে বলে ধারণা করছেন কৃষকরা। আমাদের দেশে রাবেত্রী ও আমেরিকায় দুই জাতের স্ট্রবেরি ফলের চারা পাওয়া যায়। তার মধ্যে রাবেত্রী জাতের ফল অত্যন্ত সুস্বাদু। এ বছর ৩০০-৪০০ টাকা কেজি দরে স্ট্রবেরি বিক্রি করছেন কৃষকরা।

উল্লাপাড়া উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কৃষক আলী আকবর বলেন, এ বছর আমি চার বিঘা জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করেছি। আমার মোট খরচ হয়েছে দুই লাখ টাকা। ফলন ভালো হয়েছে। আশা করছি, এবার দ্বিগুন লাভ পাবো।

রায়গঞ্জ উপজেলার চান্দাইকোনা গ্রামের হাসান আলী জানান, স্ট্রবেরি ফলের কথা শুনে উদ্বুদ্ধ হয়ে বগুড়ার শেরপুর থেকে স্ট্রবেরির চারা নিয়ে আসি গত বছর। বাড়ির পাশে ৫০ শতক জমিতে স্ট্রবেরি চাষ করি। এর দেড় মাস পর থেকে গাছে ফল আসতে শুরু করে। ফল আসা পর্যন্ত আমার খরচ হয়েছিল ৫০ হাজার টাকা। তখন বাজার ভালো থাকায় আমি অনেক লাভের মুখ দেখেছি। এবারও তিন-চার বিঘা জমিতে চাষ করেছি। ফলন ভালো হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের কৃষক আবু তালেব জানান, আমি এবার প্রথম স্ট্রবেরি চাষ করেছি। শুনেছি অনেক লাভ। ফলনও ভালো হয়েছে। তবে কতটুকু লাভবান হবো বুঝতে পারছি না। বিক্রির পর বোঝা যাবে।

এ ব্যাপারে সিরাজগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ আরশেদ আলী জানান, কৃষকদের জন্য নিঃসন্দেহে এটি একটি লাভজনক ফসল। বৃহত্তর পরিসরে এর চাষ করা হলে উচ্চ পুষ্টিসম্পন্ন ফলটি সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছবে। স্ট্রবেরি খুব সুস্বাদু ও পুষ্টিকর ফল হওয়ায় এর চাহিদা সিরাজগঞ্জে দিনদিন বাড়ছে। ফলন ও লাভ দুটোই ভালো হচ্ছে। তবে স্ট্রবেরি ফল সংরক্ষণ করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এখনও গড়ে ওঠেনি সিরাজগঞ্জে। সংরক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তুলে বেশি বেশি স্ট্রবেরি চাষ করে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে দেশের অন্যান্য জেলাসহ বিদেশে রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব।

ইউসুফ দেওয়ান রাজু/ এমএএস/পিআর