ফরিদপুরের সালথা উপজেলার বল্লভদি ইউনিয়নের বাউশখালী বাজারের খাদ্য অধিদফতরের ১০ টাকা দরে চাল বিতরণের ক্ষেত্রে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় এলাকাবাসীর অভিযোগ কার্ডধারীদের চাল না দিয়ে তা কালোবাজারে বিক্রির চেষ্টা করছে সংশ্লিষ্ট ডিলার মো. মেসবাহ উদ্দিন। তবে এ অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ফুলবাড়িয়া গ্রামের কয়েকজন কার্ডধারী জানান, ৩য় পর্বে ১০ টাকা দরের চাল আসলেও মার্চ মাসে তারা কোনো চাল পাননি। চাল চাইতে গেলে সংশ্লিষ্ট ডিলার নানা টালবাহানা করে তাদের ফিরিয়ে দেন।
কার্ডধারী প্রতিবন্ধী রাবিয়া বেগম, মজিরন বেগম, আইয়ুব ঠাকুর জানান, চতুর্থ কিস্তির চাল বিতরণের খবর আগে থেকে তারা জানতে পারেননি। পরে খবর পেয়ে চাল আনতে গেলে ডিলার মেসবাহ পরে যেতে বলে। এরপর একাধিকবার যোগাযোগ করেও চাল পাননি বলে অভিযোগ করেন কার্ডধারীরা।
বাউশখালী বাজারের কয়েকজন ব্যবসায়ীসহ আশেপাশের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, বুধবার বিকেলে ওই ডিলার গুদামে সরকারি চটের বস্তা থেকে চাল বের করে প্লাস্টিকের বস্তায় চাল ভরে রাখে এবং পরে তা স্থানীয় বাজারের এক চাল বিক্রেতার নিকট ত্রিশ টাকা কেজি দরে বিক্রি করার চেষ্টা করে।
চাল ব্যবসায়ী মজিবর মোল্লা জানান, ডিলার মেসবাহ চাল বিক্রি করতে চাইলে স্থানীয় অনেকে জানায় ওই চাল কিনলে বিপদে পড়তে হবে তাই তিনি ওই চাল কেনেননি।
বাউশখালী বাজারের ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি এমদাদ ফকির জানান, চালের বস্তা পরিবর্তনের ও অবৈধভাবে বিক্রির চেষ্টার খবর পেয়ে কোনো ধরনের জিনিস পত্র যাতে রাতের আধারে এ বাজার থেকে অন্যকোথাও না যেতে পারে সে লক্ষ্যে পাহারা বসিয়েছি।
বল্লভদি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল ইসলাম জানান, চাল বিতরণের সময় আমাকে জানানোর কথা থাকলেও তা জানায়নি। চাল বিক্রির চেষ্টার খবর জানতে চাইলে তিনি বলেন, খবর শুনে ওই বাজারের ব্যাবসায়ী নেতাদের অনুরোধ করেছি যাতে কেউ চাল না ক্রয় করে এবং চাল পাচার হতে না দেয়। বিষয়টি তিনি সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকেও জানিয়েছেন বলে জানান।
এ প্রসঙ্গে ডিলার মাওলানা মো. মেসবাহ উদ্দিনের কাছে মোবাইলে একাধিকবার জানতে চাইলে, তিনি ব্যাস্ততার অজুহাতে ফোন কেটে দেন।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মোবাশ্বের হাসান জানান, খবর পেয়েই উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তাকে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। এছাড়া অভিযোগ প্রমাণিত হলে ব্যবস্থা নেয়া হবে। ইতোপূর্বে ১০ টাকার চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগে তিন ব্যক্তির ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে।
এস.এম. তরুন/এফএ/এমএস