দেশজুড়ে

অবশেষে সেই বিতর্কিত ওসি প্রত্যাহার

অবশেষে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী মডেল থানার সেই বিতর্কিত ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহকে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে।

শুক্রবার জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে তাকে কটিয়াদী থানা থেকে প্রত্যাহার করে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে ক্লোজড করা হয়।

কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মাহমুদুল হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কটিয়াদী মডেল থানায় একই নম্বরে দুইটি মামলা রুজু, আদালতে কপি না পাঠিয়ে এফআইআর বই থেকে মামলার কপি ছিঁড়ে ফেলা এবং আসামি গ্রেফতার করে থানা থেকে ছেড়ে দেয়ার ঘটনায় তাকে প্রত্যাহার করা হয় বলে জানা গেছে। যদিও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মাহমুদুল হাসান জানান, জনস্বার্থে তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

এদিকে, এ ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের পর এলাকায় তোলপাড় শুরু হলে গত ২ এপ্রিল হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল উদ্দিনকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

কমিটিকে তদন্ত করে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। এরই মধ্যে তদন্ত শুরু করেছে কমিটি। জানা গেছে প্রাথমিক তদন্তে ওসির বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাকে প্রত্যাহার করা হয়।

বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তা হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জামাল উদ্দিন জানান, যত দ্রুত সম্ভব এ ঘটনা তদন্ত করে পুলিশ সুপারের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।

প্রসঙ্গত, কটিয়াদী উপজেলার বীর নোয়াকান্দি গ্রামের আসাদ মিয়া নামে এক ব্যক্তি তার মেয়েকে অপহরণের অভিযোগে গত ২২ জানুয়ারি একই গ্রামের জমির উদ্দিনের ছেলে রবিন মিয়াসহ (১৯) তিনজনকে আসামি করে কটিয়াদী থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। কটিয়াদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আহসান উল্লাহ মামলাটি রেকর্ড করার পর ওইদিনই মামলার প্রধান আসামি রবিনকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

পরদিন মেয়েটিকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় কিশোরগঞ্জ সিভিল সার্জন অফিসে। কিন্তু পরে রহস্যজনক কারণে ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে পাঠানো ভিকটিমকে মাঝপথ থেকে থানায় ফিরিয়ে নেয়া হয়। মেয়েটিকে তুলে দেয়া হয় বাবার হাতে। ওইদিন গভীর রাতে থানা থেকে ছেড়ে দেয়া হয় মামলার এফআরভুক্ত আসামি রবিনকে। রেকর্ডভুক্ত মামলার কপিও আদালতে পাঠানো হয়নি।

গত২২ জানুয়ারি ১২টা ১৫মিনিটে রুজু হওয়া মামলার (মামলা নং -১৩, এফআইআর ফরমের সিরিয়িাল নং- ০১৭১৩৭১৩) এফআইআর বই থেকে প্রাথমিক তথ্য বিবরণীর পাতাটি ছিঁড়ে ফেলা হয়। এ ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর একই নম্বরে কটিয়াদী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে অপর একটি মামলা রেকর্ড করা হয়। (মামলা নং-১৩, এফআইআর ফরমের সিরিয়িাল নং- ০১৭১৩৭১৪)।

এ বিষয়ে গত ১ এপ্রিল ‘কটিয়াদীতে অপহরণ মামলা নিয়ে ওসির কাণ্ড’ শিরোনামে জাগো নিউজে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এনিয়ে অফিসপাড়ায় শুরু হয় ব্যাপক তোলপাড়। এরপর এ ঘটনায় গত ২ এপ্রিল একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।

নূর মোহাম্মদ/এআরএ/এমএস