আউটসোর্সিং। বাড়িতে বসে কাজ করে আয় করার এই পদ্ধতি ধীরে ধীরে গাইবান্ধায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এই পদ্ধতিতে কাজ করে গাইবান্ধার অনেকেই এখন স্বাবলম্বী। গাইবান্ধা শহরের ব্রীজ রোডে বেসরকারিভাবে গড়ে ওঠা আউটসোর্স এক্সপার্ট লিমিটেডর নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রশিক্ষণ নিয়ে এবং কাজ করে শতাধিক যুবক বছরে লক্ষ লক্ষ টাকা আয় করছেন। গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জের বকুল মিয়া আউটসোর্সিং এর মাধ্যমে স্বাবলম্বী হওয়ার বড় উদাহরণ। কোন কাজ না পেয়ে একেবারে হতাশ হয়ে পড়েছিলেন তিনি। জীবনের অন্ধকার কাটাতে কোন পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না। একটা সময় আশার আলো খুঁজে পান আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে। বকুল মিয়া জাগো নিউজকে জানালেন, পড়াশোনা শেষ করার পর কোন চাকরি না জোটায় বেশ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত তার পরিচিত একজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে চলে যান গাইবান্ধা আউটসোর্স এক্সাপার্ট লিমিটেডে। প্রশিক্ষণ গ্রহণের পর সেখানেই কাজ শুরু করেন তিনি। এখন প্রতিমাসে তার আয় ১৫ হাজার টাকার উপরে। তার মতে আউটসোর্সিং করলে সংসার পরিচালনার জন্য অন্য কোন কিছুর প্রয়োজন হবে না। যেকোন মানুষ এই কাজ করে তার মত স্বাবলম্বী হতে পারেন। তিনি বলেন, নিজের ইচ্ছা শক্তি আর কাজ করার মানসিকতা থাকলেই কেবল এই পেশায় নিজেকে মানিয়ে নেয়া সম্ভব। স্থানীয় আইটি বিশেষজ্ঞদের মতে, সরকারিভাবে ব্যাপক প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নিলে বেকার যুবকরা আউটসোর্সিংয়ের সিঁড়ি বেয়ে আরো উপরে উঠতে পারবেন। গাইবান্ধা আউটসোর্স এক্সাপার্ট লিমিটেডের আইটি বিশেষজ্ঞ আজিম মুহাম্মদ জাগো নিউজকে বলেন, আউটসোর্সিং এখন যুগোপযোগী একটি পেশার নাম। ঝামেলামুক্ত এই পেশায় সফলতার জন্য প্রয়োজন দ্রুত গতির ইন্টারনেট সংযোগ আর একটি কম্পিউটার। নিরবিচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট সংযোগ সহজলভ্য করা হলে অসংখ্য বেকার যুবক এই পেশার মাধ্যমে বেকারত্ব ঘোঁচাতে পারবেন। যেসব প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি আউটসোর্সিং নিয়ে কাজ করছে সরকারিভাবে তাদের পৃষ্ঠপোষকতা দেয়া হলে খুব দ্রুত গাইবান্ধার মত মফস্বল শহরগুলোতে বেকার যুবকরা এই পেশার প্রতি আরও আস্থা রাখতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র ম্যানেজার আতাউর রহমান সুজন জাগো নিউজকে বলেন, আগামী ৫ বছরের মধ্যে গাইবান্ধায় আউটসোর্সিংয়ের ব্যাপক প্রসার ঘটানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করছেন। তিনি বলেন, এখনো গ্রামগঞ্জের অনেক শিক্ষিত যুবক আউটসোর্সিং সম্পর্কে অন্ধকারে আছেন। আউটসোর্সিংয়ের বিস্তার ঘটাতে হলে সরকারি বেসরকারিভাবে এর সফলতা ও উপকারিতার দিকগুলো নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে ব্যাপক প্রচার চালাতে হবে। গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক এহছানে এলাহী জাগো নিউজকে জানালেন, আউটসোর্সিংয়ের প্রসার ঘটানোর জন্য ইতোমধ্যে সরকারিভাবে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে তথ্য সেবা কেন্দ্রগুলোর মাধ্যমে প্রচারের পাশাপাশি আগ্রহী যুবকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। এমজেড/পিআর